জালিয়াতি : ‘ফেঁসে যাচ্ছেন’ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান

আপডেট: 08:56:41 15/09/2020



img

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কুষ্টিয়া শহরে এনআইডি কার্ড জালিয়াতি করে কোটি টাকার জমি হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজি রবিউল ইসলাম। পুলিশ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, জালিয়াতির ঘটনার মূল হোতা মহিবুল ইসলামকে রোববার বিকেলে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার সকালে তাকে আদালতে তোলা হলে সদর আমলি আদালতের বিচারক দোলোয়ার হোসেনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। জবানবন্দিতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজি রবিউল ইসলামের প্রত্যক্ষ সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন মহিবুল। একাধিক দিন তার সঙ্গে মিটিংয়ে যুবলীগ নেতা সজুনসহ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংশ নেন। ‘কোনো ঝামেলা হলে দেখবেন’ জানিয়ে তিনি হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী মহিবুল ইসলামের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নেন বলে জবানবন্দিতে বলা হয়।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভির আরাফাত জানান, কুষ্টিয়া শহরের এন এস রোডের বাসিন্দা এমএমএ ওয়াদুদের প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি একটি চক্র জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। জমি রেজিস্ট্রির ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ ১০-১২ অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন।
এই মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করেছে। চাঞ্চল্যকর এই জালিয়াতি মামলায় শহর যুবলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান সুজন, মিন্টো খন্দকার, তার দুই বোন হোসনেয়ারা খাতুন ও ছানোয়ারা খাতুনকে তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত। অপর দুই আসামি জমির ক্রেতা মহিবুল ইসলাম ও ‘প্রতারক’ মিন্টো খন্দকারের ভাগ্নে মিলন হোসেন পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এই জালিয়াত চক্রের সঙ্গে যত প্রভাবশালী ব্যক্তিই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন এসপি।
মামলার বাদী ও জালিয়াতির শিকার জমির মালিক এমএমএ ওয়াদুদ মিয়ার ভাষ্য, রাজনৈতিক নেতাদের সাপোর্ট ছাড়া এতো বড় জালিয়াতি করা সম্ভব না। তাই তদন্তে যাদের নাম উঠে আসছে, প্রত্যেকের কঠোর শাস্তি চান তিনি।
এদিকে, জালিয়াতির ঘটনায় হাজি রবিউল ইসলামের নাম উঠে আসায় বিব্রত জেলা আওয়ামী লীগ। তবে দোষী প্রমাণিত হলে দল কাউকে ছাড় দেবে না বলে জানান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী।
যোগাযোগ করা হলে জমি জালিয়াতির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজি রবিউল ইসলাম। উত্থাপিত অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন