চৌগাছায় ৪ ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ, প্রেসক্রিপশনে আগুন

আপডেট: 10:22:07 06/08/2020



img
img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছার ছয়টি প্রাইভেট ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে চারটিকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে যশোর সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি দল।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে দুইটা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত শহরের এসব ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযানের শুরুতে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকৌশলী এনামুল হকের নেতৃত্বে অংশ নেন যশোরের সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি সাবেক ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ও যশোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর আবু মাউদ এবং চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছা. লুৎফুন্নাহার লাকি, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. তৌহিদুজ্জামান, যশোর সদর উপজেলা স্যানিটারি ইনসপেক্টর পার্থপ্রতিম লাহিড়ী, চৌগাছা থানার এসআই বাবুল আক্তারসহ পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা। একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অন্য একটি প্রোগ্রামে গেলে অন্যরা অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে শহরের ‘কপোতাক্ষ ক্লিনিক’, ‘মায়ের দোয়া প্রাইভেট ক্লিনিক’, ‘বিশ্বাস ডায়গনস্টিক’ ও ‘পল্লবী ক্লিনিক’কে লাইসেন্স নবায়ন না থাকা, সর্বক্ষণিক মেডিকেল অফিসার ও পর্যাপ্ত নার্স না থাকাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সবরকমের চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এসময় পল্লবী ক্লিনিকে ভর্তি ১৫ রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ক্লিনিকটির মালিক গ্রামডাক্তার মিজানুর রহমান ও ক্লিনিকের একজন্য মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জাহিদুর রহমানের প্রেসক্রিপশন প্যাডে ‘ডাক্তার’ লেখার অপরাধে তাদের তাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়। ওই সময় তাদের প্রায় দুই হাজার প্রেসক্রিপশন প্যাড (চিকিৎসাপত্র) পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযানকালে দেখা যায়, ‘মায়ের দোয়া প্রাইভেট ক্লিনিকে’ ওষুধ রাখার ফ্রিজে মাংস ও বøাড পাশাপাশি রাখা হয়েছে। ফ্রিজটির গোড়ায় অনেকগুলো ব্যাঙ লাফাচ্ছিল। অপারেশন থিয়েটারের পাশের জানালা খোলা এবং রোগী রাখার বেডে ময়লা পড়ে ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে ক্লিনিকটির সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এছাড়া এসব ক্লিনিককে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেগুলোর লাইসেন্স নবায়নসহ ডাক্তার ও নার্সদের কাগজপত্র প্রদর্শন ও যে ক্লিনিকে যে যে ত্রুটি রয়েছে তা সমাধান করে প্রদর্শন করতে হবে। পরবর্তী পরিদর্শনের সময়ে নবায়নসহ সকল কাগজপত্র ও সার্বিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে ক্লিনিকগুলোকে স্থায়ীভাবে সিলগালা করে দেওয়া হবে।
এবিষয়ে অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া যশোরের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ও যশোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর আবু মাউদ বলেন, ছয়টি ক্লিনিকের মধ্যে কপোতাক্ষ ক্লিনিক, বিশ্বাস ডায়াগনস্টিক, মায়ের দোয়া ক্লিনিক ও পল্লবী ক্লিনিককে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সকল প্রকার চিকিৎসা সেবা বন্ধ রেখে কাগজপত্র হালনাগাদ ও ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সেবার পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ না মানলে ক্লিনিকগুলিকে স্থায়ীভাবে সিলগালা করে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, পল্লবী ক্লিনিকে ভর্তি থাকা ১৫ জন রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তরের জন্য তিনদিন সময় দেওয়া হয়েছে এবং তাদের দুজনকে ‘ডাক্তার’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অপরাধে সতর্ক করে দেওয়া হয় ও তাদের প্রেসক্রিপশন প্যাড (চিকিৎসাপত্র) পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, নোভা এইড প্রাইভেট হাসপাতালের সার্টিফিকেটধারী নার্স সংকট রয়েছে এবং এছাড়া মধুমতি প্রাইভেট হাসপাতালের ইন্সপেকশন প্রক্রিয়াধীন থাকায় এই দুটির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আগামী শনিবার উপজেলার অন্যান্য ক্লিনিকগুলিতেও অভিযান চালানো হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন