চৌগাছায় প্রার্থী বাছাইয়ে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

আপডেট: 11:12:48 09/10/2021



img

স্টাফ রিপোর্টার: ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় ইউপি নির্বাচনে চৌগাছায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ে স্বেচ্ছাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন কয়েক মনোনয়নপ্রত্যাশী।
আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের পদ-পদবিধারী কয়েক নেতার অভিযোগ, তৃণমূলে তারা জনপ্রিয় হলেও তাদের নাম বাদ দিয়ে গতবারের বিদ্রোহী, পদবিহীন, নির্বাচন করতে চাননি- এমন প্রার্থীদের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
গত ৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ‘অনিয়ম করে যারা প্রার্থীদের নাম কেন্দ্রে পাঠিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’- বক্তব্যে নড়েচড়ে বসেছেন নির্বাচন করতে ইচ্ছুক অথচ কেন্দ্রে নাম পাঠানো হয়নি এমন নেতারা। তারা প্রার্থী বাছাইয়ে বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় অভিযোগ আকারে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছেন উপজেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি পাতিবিলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও গতবারের নৌকার প্রার্থী সহিদুল ইসলাম মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর সোহেল, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সদস্য জগদীশপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান এবারের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক প্রত্যাশী সিরাজুল ইসলাম মাস্টার, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য প্রভাষক হারুন অর রশীদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও চৌগাছা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক অমেদুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ফুলসারা ইউপিতে একমাত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান মেহেদী মাসুদ চৌধুরীর নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর সোহেল ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য প্রভাষক হারুন অর রশীদ জীবনবৃত্তান্ত জমা দিলেও তাদের নাম পাঠানো হয়নি।
সিংহঝুলি ইউপিতে গতবারের নির্বাচনে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ইউনিয়নটির পাঁচজনের নাম পাঠানো হলেও সাবেক চেয়ারম্যান ও গতবারের নৌকার প্রাথী উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক রেজাউর রহমান রেন্দু বা উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল হামিদ মল্লিকের নাম পাঠানো হয়নি।
ধুলিয়ানীতে এক নম্বরে ঠিকাদার এসএম আব্দুস সবুরসহ চারজনের নাম পাঠানো হয়েছে। যার মধ্যে গতবারের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী থাকলেও নৌকার প্রার্থী হয়ে সামান্য ভোটে পরাজিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলাউদ্দিনের নাম পাঠানো হয়নি।
জগদীশপুরে নৌকার চেয়ারম্যানের পাশাপাশি সম্পূর্ণ নতুন দুজনের নাম পাঠানো হলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং সাবেক ইউপি চেয়াম্যান সিরাজুল ইসলাম মাস্টারের নাম পাঠানো হয়নি।
পাতিবিলায় সম্পূর্ণ নতুন তিনজনের নাম পাঠানো হলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের জেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান গতবারের নৌকার প্রার্থী সহিদুল ইসলাম মিয়ার নাম পাঠানো হয়নি।
হাকিমপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক দুজন এবং সদস্য একজনের নাম পাঠানো হলেও এক নম্বরে দেওয়া হয়েছে মাহফিজুর রহমান ডেভিড নামে একজনের নাম। যিনি প্রথম থেকে নির্বাচন করতে মাঠে ছিলেন না বলে অভিযোগ।
স্বরুপদাহে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ার হোসেনের নাম পাঠানো হয়েছে এক নম্বরে। সেখানে গতবারের নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদকের নাম পাঠানো হয়েছে চার নম্বরে।
নারায়ণপুরে নৌকার চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন মুকুল এবার নির্বাচন করছেন না। সেখানে এক নম্বরে  নাম পাঠানো হয়েছে আলমগীর হোসেন নামে একজনকে। তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই বা নির্বাচন করতে মাঠে ছিলেন না বলে অভিযোগ। অথচ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহ আলম সরকার বা চৌগাছা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা প্রভাষক অমেদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাঠে থাকলেও তাদের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়নি।
একইভাবে সুখপুকুরিয়ায় ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত চেয়ারম্যান তোতা মিয়ার নাম এক নম্বরে রেখে তার ছেলে তাজুল ইসলাম তিতাস ও এক ইউপি সদস্যের নাম পাঠানো হয়েছে। অথচ গতবার সামান্য ভোটে পরাজিত নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য চাঁদনী কবীর এবং সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্পাদক হবিবর রহমানের নাম পাঠানো হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য প্রভাষক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন রাজনীতি করেও শুধু ব্যক্তি আক্রোশে আমার নাম পাঠানো হয়নি।’
ফুলসারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ২১ বছরের সভাপতি শের আলী বলেন, ‘কেন আমাদের নাম যাবে না? আমরা কি আওয়ামী লীগের কেউ না?’
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির সোহেল বলেন, ‘আমার নাম কেন পাঠানো হলো না কার কাছে জানতে চাইবো?’
উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হবিবর রহমান বলেন, ‘আমার নাম না পাঠানো হলেও গতবারের বিদ্রোহী তোতা মিয়া এবং দলে নাম-পরিচয়হীন তার ছেলের নাম পাঠানো হয়েছে।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘দলের রেজুলেশন হয়েছে- সেটিই জানি না। কোনো সভা ছাড়াই প্রার্থী যাচাই-বাছাই হয়েছে। দল থেকে সিভি চেয়েছিল, জমা দেওয়ার পরও আমার নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়নি।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুল আলম রিংকু বলেন, সভা ডেকে রেজুলেশন করা হয়নি- সহসভাপতির এ অভিযোগ সঠিক। কেন হয়নি তা উপজেলা সভাপতি ও সম্পাদক বলতে পারবেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফুলসারা ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী মাসুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সাধ্যমতো নাম পাঠাতে চেষ্টা করেছি।’
যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডাক্তার নাসির উদ্দিন বলেন, ‘প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ স্বেচ্ছাচার করেছে।’
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘আমাদের কাছে উপজেলা থেকে যে রেজুলেশন পাঠিয়েছে আমরা সেটিই কেন্দ্রে পাঠিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের সভা ছাড়াই রেজুলেশন এবং অনিয়ম হয়ে থাকলে তারা কেন্দ্রে অভিযোগ দিতে পারেন।’

আরও পড়ুন