চৌগাছায় ধানে মাজরা পোকার আক্রমণ

আপডেট: 07:09:58 14/09/2021



img

রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা (যশোর): চৌগাছায় রোপা আমন খেতে পোকার আক্রমণ ও রোগ-বালাইয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। প্রতিষেধক প্রয়োগ করেও ফল না পাওয়ায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তারা।
এ অবস্থায় কৃষি কর্মকর্তাদের সাহায্য মিলছে না বলে অভিযোগ কৃষকদের। এদিকে, উপজেলা কৃষি অফিসের দাবি, তারা সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছেন এবং পোকার আক্রমণে ক্ষতির আশঙ্কা তেমন নেই।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছরে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৭ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উন্নত জাতের এরাইজেড গোল্ড সাত হাজার পাঁচ হেক্টর। ধানী গোল্ড চার হাজার ৪৪৫ হেক্টর, এবং উফসি ব্রি-৮৭, ৫১,৪৯ ৩৪, ৮০ জাতের ধান পাঁচ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। সম্ভাব্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৭৭ হাজার ৭২৫ মেট্রিক টন।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে ধানক্ষেতে প্রায় দুই সপ্তাহ থেকে দেখা দিয়েছে মাজরা পোকার আক্রমণ। কীটনাশক দিয়েও পোকার আক্রমণ ও রোগ ঠেকাতে পারছেন না কৃষকরা।
নারায়ণপুর ইউনিয়নের চাঁদপাড়া গ্রামের চাষি মহর আলী, শুকুর আলী, আলী হোসেন, স্বরুপদাহ ইউনিয়নের আন্দারকোটা গ্রামের জহর আলী, ফুলশারা ইউনিয়নের ফুলশারা গ্রামের খলিলুর রহমান, সদর ইউনিয়নের দিঘলসিংহা গ্রামের জালাল উদ্দীনসহ আরো অনেকে জানান, অল্প সময়ের মধ্যে আমন খেতে মাজরা পোকার আক্রমণ শুরু হয়েছে। বাজার থেকে নামি কোম্পানির কীটনাশক কিনে প্রয়োগ করেও কোনো ফল পাচ্ছে না বলে চাষিরা জানান।
কৃষকদের অভিযোগ মাঠে মাঠে এ অবস্থা বিরাজ করলেও কৃষি বিভাগের লোকজন কোনো খোঁজ খবর নিচ্ছে না। এ অবস্থায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তারা।
উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের আলী হোসেন আট বিঘা আমন চাষ করেছেন এবং একই গ্রামের চাঁদ আলী রোপণ করেছেন প্রায় তিন বিঘা জমিতে। তারা জানান, প্রতিটি খেতেই মাজরা পোকা লেগেছে। মাজরা দমনের জন্য বাজার থেকে নামি-দামি কোম্পানির কীটনাশক কিনে ব্রিক্রেতার পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োগ করেও কানো কাজ হয়নি বলে তাদের অভিযোগ। চাষিরা আরো অভিযোগ করেন, এই ইউনিয়নে দায়িত্বরত কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তাকে মাঠে পাওয়া যায় না। তিনি  যদিও মাঝে মধ্যে অসেন বাজারে কীটনাশকের দোকানে বসে গল্প করে চলে যান।  
নারায়ণপুর ইউনিয়নের দায়িত্বরত কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা মুসলিমা খাতুন বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে চাষিদের এধরনের অভিযোগ ছিল, থাকবে। কেউ যদি আমাকে না জানায় তা হলে আমি কীভাবে জানবো তার খেতে মাজরা লেগেছে।’ তারা জানালে খেতে গিয়ে পরামর্শ দিয়ে আসবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমরেন বিশ্বাস বলেন, এতে কৃষকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। পরিমিত কীটনাশক ব্যবহারে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে তা ফলনে তেমন প্রভাব ফেলবে না বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন