চৌগাছায় দরজা ভেঙে যুবককে বেধড়ক মারপিট

আপডেট: 07:04:45 25/10/2020



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছায় পুলিশ পরিচয়ে রায়হান (১৯) নামে এক কলেজছাত্রকে নিজ বাড়ি থেকে দরজা ভেঙে উঠিয়ে নিয়ে হাতপা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
খবর পেয়ে রাতেই চৌগাছা থানা পুলিশ ওই ছাত্রকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়।
রায়হান উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের গরিবপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে এবং পাশাপোল-আমজামতলা মডেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
হাসপাতালে ভর্তি ছেলেটির মা জানান, শনিবার রাতে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল রায়হান। রাত একটার দিকে শামীম, সাগর, সালাম, ইয়াসিন, বোরহান, ইউসুফসহ ১০-১২ জন দুর্বৃত্ত বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের বাড়িতে আসে। সন্ত্রাসীরা নিজেদেরকে ‘থানা পুলিশের লোক’ পরিচয় দিয়ে রায়হানকে ডাকতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা রায়হানের ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। ওই সময় রায়হানের মা শামিমের পা জড়িয়ে ধরেন। তখন তার বুকে লাথি মেরে ফেলে দিয়ে ছেলেকে ঘরের বাইরে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। বাড়ির উাঠনে ফেলে রায়হানকে উপর্যুপরি মারপিট করে। এরপর সেখান থেকে তাকে বাড়ির বাইরে নিয়ে আরেক দফা মারপিট করে। সেখান থেকে গ্রামের সাবেক মেম্বারের (ফেলা মেম্বার) বাড়ির সামনে নিয়ে রায়হানকে চারজনে ধরে মাটিতে শুইয়ে ডান পায়ে চাপাতির উল্টোপিঠ দিয়ে বেধড়ক আঘাত করে এবং একপর্যায়ে তার বুকে শটগান ঠেকিয়ে গুলি করতে উদ্যত হয়। সেসময় রায়হানের চিৎকারে গ্রামের লোকজন এগিয়ে এলে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে চলে যায় দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয়রা চৌগাছা থানায় সংবাদ দিলে পুলিশ গিয়ে রায়হানকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। পরে সেখান থেকে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার মাশরাফি বলেন, রায়হানের মাথা, ডান হাত ও ডান পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। নাকের অবস্থাও ভালো না। ২৪ ঘণ্টা না গেলে কিছু বলা যাবে না।
চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এখনো এবিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন