চৌগাছায় খালে বাঁধ, বোরো চাষ বন্ধ

আপডেট: 06:04:58 30/12/2019



img
img

রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা (যশোর) : চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের কালিয়াকুন্ডি গ্রামে রাজারকাটা খাল থেকে বারো মাসের খাল পর্যন্ত পানি আটকে মাছ চাষ করছেন তিন ব্যক্তি। এমনকি খালের পানি বের হওয়ার পথও তারা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে খালপাড়ের আট গ্রামের পানি বের হতে পারছে না। এতে কয়েকশ’ বিঘা জমিতে এই বছর বোরো আবাদ করতে পারছেন না স্থানীয় চাষিরা। তারা দ্রুত বাঁধ অপসারণের দাবি করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কালিয়াকুন্ডি, রানিয়ালী, মালিগাতি, হাউলী, বাড়িয়ালীসহ আট গ্রামের পানি বের হয় রাজারকাটা খাল দিয়ে। পরে এই পানি যায় যশোর সদর উপজেলার বুকভরা বাঁওড়ে। সেখান থেকে খালের মাধ্যমে চলে যায় কপোতাক্ষ নদে। ২০১৩ সালে কালিয়াকুন্ডি গ্রামের জুল হোসেন, যশোর সদরের ইসলামপুরের সাদেক হোসেন ও  শেখপাড়ার আল আমিন সেখানে মাছ চাষ শুরু করেন। সারা বছর মাছ চাষ করার জন্য তারা কালিয়াকুন্ডির রাজারকাটা খালের মুখে ও বারো মাসের খালের মুখে ব্রিজের নিচে ইট দিয়ে আটকে দিয়েছেন। এতে খালের পাড়ে আড়াইশ’ বিঘা জমিতে এখন পানি জমে আছে। ফলে ওই জমিতে বোরোসহ অন্যান্য ফসলের আবাদ করতে পারছেন না স্থানীয় মানুষ।
কালিয়াকুন্ডির সোলাইমান হোসেন জানান, খালের পাড়ে তার জমি আছে। আগে ওই জমিতে তিনি বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসল ফলাতে পারতেন। কিন্তু এখন তারা কোনো আবাদ করতে পারছেন না।
গ্রামের সাবেক মেম্বার আব্দুল মজিদ বলেন, তার গ্রামের অনেক মানুষের জমি রয়েছে খালের পাশে। প্রভাবশালী মহল মাছ চাষ করায় তারা এখন ধান চাষ করতে পারছেন না। অথচ তাদের অন্য কোনো পেশা নেই। এখন তাদের অনেক সমস্যা। সংসার চলছে না।
স্থানীয় পাশাপোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অবাইদুল ইসলাম সবুজ বলেন, ‘মাছ চাষের জন্য ব্রিজের নিচে বাঁধ দেওয়ায় এই খাল দিয়ে পানি বের হতে পারছে না। এতে এলাকার মানুষ সমস্যায় পড়েছে। আমার ইউনিয়ন পরিষদে কয়েক বার শালিস-বিচার করেছি। কিন্তু যারা মাছ চাষ করছে, তারা কোনো কথা শুনছে না।’
ওই খালের পাশে জমি রয়েছে কালিয়াকুন্ডি গ্রামের আইয়ুব হোসেন, আনোয়ার হোসেন, ইসমাইল হোসেন, শরিফুল ইসলাম, অঞ্জলীরানি, সলুয়া গ্রামের এখলাস উদ্দিন, মালিগাতি গ্রামের শংকরের। তাদের দাবি, জমিগুলো জবরদখল করে ওই তিন ব্যক্তি মাছ চাষ করছেন। তারা অভিযোগ করেন, জমির কথা বলতে গেলে জুল হোসেন তার পোষ্য বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষকারী জুল হোসেন বলেন, ‘আমি ১৫৫ বিঘা জমি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছি। সবটুকু ব্যক্তি মালিকানার জমি। ব্রিজের নিচে বাঁধ দিয়েছি, তবে কিছু ইট খোলা আছে, সেখান থেকে পানি বের হতে পারে। শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে গেলে চাষিরা সেখানে ধান চাষ করতে পারবে। তাদের কোনো সমস্যা হবে না। গ্রামে আমার একটি প্রতিপক্ষ আছে। তারা আমাকে নিয়ে অপ্রচার চালাচ্ছে।’

আরও পড়ুন