চৌগাছায় কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেট: 07:55:17 17/11/2019



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছায় জেএসসি পরীক্ষায় ছারা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র সচিব কাজী গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে পরীক্ষর্থীদের ক্যালকুলেটর কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয় ২০ পরীক্ষার্থী ও কয়েক অভিভাবক।
অভিযোগকারীরা হাজী সরদার মর্ত্তজ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। রোববার বিকেল পাঁচটায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে তারা ওই কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেছেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ নভেম্বর জেএসসির গণিত পরীক্ষায় চৌগাছা ছারা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের (কেন্দ্র কোড-৩০৯) ২০২ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছিল হাজী সরদার মর্ত্তজ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়লের শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা কেন্দ্রে অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করছিল।
শিক্ষার্থী ও মর্ত্তুজ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র সচিব ও ছারা পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী গোলাম মোস্তফার নির্দেশে ওই কক্ষের পরিদর্শকরা ক্যালকুলেটরগুলো কেড়ে নেন। তাদের অভিযোগ, হাজী সরদার মর্ত্তজ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেন পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে না পারে সে উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে কেন্দ্র সচিবের নির্দেশে তাদের ক্যালকুলেটর কেড়ে নেওয়া হয়। ক্যালকুলেটর কেড়ে নেওয়ায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তিকর অবস্থা সৃষ্টি হয়। এ কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার উত্তরপত্র সম্পন্ন করতে পারেনি।
শিক্ষার্থীরা দাবি করেছে, উপজেলার অন্য কোনো কেন্দ্রে এভাবে ক্যালকুলেটর কেড়ে নেওয়া হয়নি।
অভিযোগে শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার মিতু, তাহিয়াত ফাতেমা তোয়া, লাবিবা ওয়াসি লানিয়া, জান্নাতুল মিম, তারিন আলম তনি, শারমিন আক্তার নূপুর, মেহনাজ পারভীন মিরা, শাহানাজ আক্তার অর্থিজা, নূরজাহান ইয়াসমিন রিয়া, ফারহানা ইয়াসমিন তিন্নি, আয়েশা আক্তার মিম্মা, তামান্না ইয়াসমিন তিন্নি, সাজেদা খাতুন, নুরজাহান ইয়াসমিন রিয়া, সুমাইয়া খাতুন, আয়েশা আক্তার, মোহনা, কুলসুমা খাতুন, ফারজানা আক্তার স্বাক্ষর করেছে।
রোববার বিকেলে অভিযোগটি জমা দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মনিরুল ইসলাম উজ্জ্বল, আজমির হোসেন, খাইরুজ্জামানসহ বেশ কয়েকজন অভিভাবক ছিলেন।
এই ব্যাপারে হাজী মর্ত্তজ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমার স্কুলের শিক্ষার্থীরা যেন ভালো ফলাফল করতে না পারে সেজন্য ওই কেন্দ্র সচিব পরিকল্পিতভাবে অনুমোদিত ক্যালকুলেটর কেড়ে নেন। এর ফলে আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তরপত্র সম্পন্ন করতে পারেনি। উপজেলার অন্য কোনো কেন্দ্রে এভাবে ক্যালকুলেটর কেড়ে নেওয়া হয়নি।’
তবে ছারা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র সচিব কাজী গোলাম মোস্তফার বক্তব্য জানা যায়নি। যোগাযোগ করা হলে হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন