চৌগাছায় আগাম জাতের রোপা আমনের বাম্পার ফলন

আপডেট: 06:26:02 25/10/2020



img

রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা (যশোর) : চৌগাছায় আগাম জাতের বিনা-৭, বিনা-১৭, ব্রি-৫১, ব্রি-৭১, ব্রি-৭৫, ব্রি-৮০, ব্রি-৮৭ রোপা আমন চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। আর দেশি ও আগাম এসব জাতের রোপা আমনে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলতি বছর উপজেলায় ব্রি-৫১ এর চাষ হয়েছে দুই হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে। উপজেলা কৃষি অফিস প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে এসব দেশি জাতের আগাম রোপা আমন চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন কৃষকদের।
এখানকার কৃষকরা আমনে স্বর্ণ, গুটি স্বর্ণ, প্রতীক ধানের চাষ করে আসছিলেন। পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষায় শক্তিশালী ও দেশি উচ্চফলনশীল এবং আগাম জাতের ধান চাষের বিষয়ে কৃষককে আকৃষ্ট করতে থাকেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা। কৃষি অফিসের প্রচেষ্টায় বিগত কয়েক বছরে চাষিরা দেশি জাতের ব্রি-৪৯ ও ব্রি-৫১ জাতের ধান চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর আরো কয়েকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহনীয়, পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষায় শক্তিশালী, আগাম ও উচ্চফলনশীল জাতের ধান চাষের প্রদর্শনী প্লট করা হয়। যেখানে এসব জাতের ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এসব প্রদর্শনী প্লটে উৎপাদিত ধান বীজ হিসেবেও ব্যবহৃত হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে উপজেলার আটটি প্রদর্শনী প্লটে বিনা-৭, বিনা-১৭, ব্রি-৭১, ব্রি-৭৫, ব্রি-৮০, ব্রি-৮৭ জাতের ধানের চাষ করা হয়েছে। প্রতিটি প্রদর্শনী প্লটে ১৫ জন করে কৃষাণ-কৃষাণীর ১৫ বিঘা করে ধানের চাষ করা হয়েছে। এর একটি প্রদর্শনী প্লট উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের হাজরাখানা গ্রামে। এই প্লটে রয়েছেন পাঁচ কৃষাণী ও দশ কৃষকের সমন্বয়ে একটা গ্রুপ। এখানে বিনা-৭ জাতের আগাম ফলনশীল ধানের চাষ করা হয়েছে। রোববার এই প্লটের একটি ক্ষেতের ধান কাটা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দিন।
ওই সময় অন্যদের মধ্যে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম, কৃষক রফিকুল ইসলাম ও হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
ধান কেটে পরিমাপ করে দেখা যায়, বিঘাপ্রতি ১৮ মণ ২৩ কেজি করে ধান উৎপাদিত হয়েছে।
এসময় কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা কৃষি অফিসের প্রেরণায় আমরা এই ধানের চাষ করে সাফল্য পেয়েছি। প্রায় ২০ দিন আগে ধান কেটে এই জমিতে রবি শষ্য চাষ করবো। তারপর বোরো চাষ করবো। ধানের ফলনও হয়েছে ভালো।’
উপজেলা কৃষি অফিসার রইচ উদ্দিন বলেন, চৌগাছার বেশিরভাগ জমিতেই আমন ও বোরো চাষ করা হয়। এছাড়া বছরের অন্য সময়গুলোতে এই জমি পড়েই থাকে। সে কারণে দেশি প্রজাতির আগাম, উচ্চফলনশীল ও প্রাকৃতিক দুর্যোগসহায়ক, পোকা-মাকড়ের আক্রমণ প্রতিরোধে শক্তিশালী এসব জাতের রোপা আমন চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। যাতে করে আমন ও বোরো চাষের মাঝখানের এই সময়টাতে কৃষক ওই জমিতে রবি শস্যের চাষ করতে পারেন। তাছাড়া আগেই কাটা যাওয়ায় এসব জাতের ধান চাষে খরচও কম।
তিনি বলেন, বিনা-৭ ধান স্বর্ণ ও প্রতীকের চেয়ে ২০ দিন আগে কাটা যায়, স্বর্ণ বা প্রতীকের সমান ফলনশীল, উৎপাদন খরচ কম এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। এই ধানটি হেলে পড়ার সম্ভাবনা কম। বিনা-১৭ হলো সুপার রাইচ, বিনা-৭ এর চেয়েও উচ্চ ফলনশীল এবং স্বর্ণ ও প্রতীকের চেয়ে ১৫ দিন আগে কাটা যায়। তবে এই ধানটি ৮০ ভাগ পাকলেই কেটে ফেলতে হয়। তা না হলে ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর ব্রি-৭৫ হলো সুগন্ধি ধান। এই ধানের মাঠেও সুগন্ধ ছড়ায়। স্বর্ণ বা প্রতীকের চেয়ে ২৫-৩০ দিন আগে কাটা যায়। এর ফলন মাঝারি চিকন স্বর্ণ বা প্রতীকের সমান। আর এসব জাতগুলোর মধ্যে ব্রি-৮৭ সবচেয়ে ভালো। এটা একেবারে চিকন ধান। স্বর্ণ বা প্রতীকের চেয়ে ১৩ দিন আগে কাটা যায়। এটা উচ্চফলনশীল। বিঘাপ্রতি দেশে গড়ে ২০-২২ মণ ধান উৎপাদন হয়। তবে চৌগাছার মাটি উর্বর হওয়ায় এখানে বিঘাপ্রতি ২৫ মণ ফলনও হতে পারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, চৌগাছা উপজেলাটি শতভাগ সেচের আওতায় রয়েছে। তাছাড়া এখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা কম। এখানকার মাটি অন্য অনেক স্থানের চেয়ে উর্বর। একারণে দেশের গড়ের চেয়ে চৌগাছায় বেশি উৎপাদন হয়।
‘আমরা এর আগে ব্রি-৫১ জাতের রোপা আমন চাষে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করেছি। কৃষক সেটা চাষ করে স্বর্ণ ও প্রতীকের তুলনায় বেশি উৎপাদন পেয়েছেন। চলতি বছর উপজেলায় দুই হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে ব্রি-৫১ জাতের রোপা আমনের চাষ করেছেন কৃষকরা। গত বছরগুলোতে এই জাতের ধান বিঘাপ্রতি ২৫ মণ পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে।

আরও পড়ুন