চৌগাছায় গ্রামপুলিশের ২৮ মাসের হাজিরার টাকা বকেয়া

আপডেট: 01:55:49 13/07/2020



img

রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা (যশোর) : চৌগাছা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ১০৪ জন গ্রামপুলিশের ২৮ মাসের থানা হাজিরার টাকা বকেয়া রয়েছে। ফলে আর্থিক অনটনে দিন কাটছে তাদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতি সপ্তাহের সোমবার উপজেলার সব ইউনিয়নের গ্রামপুলিশ সদস্যদের থানা পুলিশ প্রশাসনের কাছে হাজিরা দিতে হয়। এদিন থানার অফিসার ইনচার্জ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তাদের বেতনের একটা অংশ এই হাজিরার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি হাজিরার জন্য তাদের ৩০০ টাকা করে প্রদান করা হয়ে থাকে। উপজেলা প্রশাসন রাজস্ব আয়ের ১% থেকে যে টাকা পেয়ে থাকে সেখান থেকে গ্রামপুলিশদের এই হাজিরার টাকা প্রদান করে। কিন্তু রাজস্বের এই টাকা দিয়ে অনেক কিছু করা হলেও ২০১৮ সালের মার্চ মাস থেকে গ্রামপুলিশদের হাজিরার টাকা বকেয়া রয়েছে। প্রতি মাসে কমপক্ষে চার দিন হাজিরা হলে একজন গ্রাম পুলিশের মাসে পাওনা হয় এক হাজার ২০০ টাকা। যে মাসে পাঁচ দিন সোমবার হয় সে মাসে পাওনা হয় দেড় হাজার টাকা। প্রতিমাসে কমপক্ষে এক এক হাজার ২০০ টাকা পাওনা হলে ২৮ মাস হিসেবে একজন গ্রাম পুলিশের সর্বনিম্ন পাওনা হয় ৩৩ হাজার ৬০০ টাকা। সেই হিসেবে উপজেলার ১০৪ জন গ্রামপুলিশের ২৮ মাসের সর্বনিম্ন বকেয়ার পরিমাণ কমপক্ষে ৩৫ লাখ টাকা।
গ্রামপুলিশ ও কর্মচারী ইউনিয়নের যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও চৌগাছা উপজেলা শাখার সভাপতি রিজাউল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের ১% এর টাকা দিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও আমরা দরিদ্র মানুষ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সরকারি দায়িত্ব পালন করি, অথচ আমাদের হাজিরার টাকা বকেয়া রাখা হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সারাদিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করি। আবার রাতে থানা পুলিশের সাথে কাজ করি। এছাড়া উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন নির্দেশনাও আমাদেরকে পালন করতে হয়। তারপরও আমাদের বেতন বকেয়া রাখা হয় খুবই দুঃখজনক।’
নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক একজনগ্রাম পুলিশ বলেন, ‘মাসে বেতন পাই যৎসামান্য; তারপরও বাকি থাকে। উপজেলা পরিষদের কারো বেতন বাকি থাকে না। অথচ আমাদের বছরের পর বছর বেতন বাকি থাকে। আমাদের দিয়ে সবাই কাজ করায়। কিন্তু চেয়ারম্যান স্যার, ওসি স্যার, ইউএনও স্যার, ইঞ্জিনিয়ার স্যার- কেউ আমাদের খবর রাখে না।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজজ্বের ১% থেকে বেতন প্রদান কমিটির উপজেলা সদস্য সচিব প্রকৌশলী আব্দুল মতিন বলেন, ‘কত বাকি আছে তা আমি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
জানতে চাইলে চৌগাছার নবাগত নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রকৌশলী এনামুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই আজই খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

আরও পড়ুন