চুয়াডাঙ্গার ৭৬ চালকল কালো তালিকাভুক্ত

আপডেট: 02:57:47 14/10/2020



img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুক্তি অনুযায়ী সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ না করায় চুয়াডাঙ্গার ৭৬ চালকলকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। ৭৬ চালকল মালিকদের মধ্যে ৪২ জন চুক্তি অনুযায়ী আংশিক ও ৩৪ জন কোনো চালই সরবরাহ করেননি।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে তিনটি অটোরাইচমিলসহ জেলার ১৯৭ জন চালকল সাত হাজার ৬০৫ মেট্রিক টন চাল সরবরাহের জন্য সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। গত ১৩ মে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহের মধ্য দিয়ে সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে গত ৩১ আগস্ট চাল সংগ্রহের শেষ সময় নির্ধারণ করা হলেও পরে তা ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
মিলারদের ভাষ্য, চাল উৎপাদনে ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা খরচ হলেও সরকার ব্যবসায়ীদের ৩৬ টাকায় চাল সরবরাহের নির্দেশ দেয়। সরকারের সঙ্গে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে চালকল মালিকদের একটি বড় অংশই লোকসান গুনেছেন।
জেলায় তিনটি স্বয়ংক্রিয়সহ ১২১টি চালকলের মালিক তাদের চুক্তি করা চার হাজার ৮৮৭ দশমিক ৫১০ টন চালের শতভাগ সরবরাহ করেন। ৪২ জন চালকল মালিক তাদের দুই হাজার ১৫৪ দশমিক ১৫০ টন চুক্তির বিপরীতে ৯৮৩ দশমিক ৭৬০ টন (প্রায় ৪৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ ) চাল সরবরাহ করেন। বাকি ৩৪ জন মালিক ৫৬৩ দশমিক ৩১০ টন চাল সরবরাহের জন্য চুক্তি করলেও কোনো চালই তারা সরবরাহ করেননি।
ব্যর্থদের মধ্যে সদর উপজেলার ১৫টি চালকল রয়েছে। এগুলো হলো, মেসার্স ফ্রেন্ডস রাইচ মিল, মেসার্স মীর কাশেম রাইচমিল, মেসার্স ছাদেক আলী রাইচমিল, মেসার্স মদিনা রাইচমিল, মেসার্স নীল মিয়া রাইচমিল, মেসার্স বাহার আলী রাইচমিল, মেসার্স গনি রাইচমিল, মেসার্স আব্দুর রাজ্জাক রাইচমিল, মেসার্স হাওয়া রাইচমিল, মেসার্স হামিদুর রহমান রাইচমিল, মেসার্স খাইরুল রাইচমিল, মেসার্স মোল্লা রাইচমিল, মেসার্স শুকুর আলী রাইচমিল, মেসার্স এসবি রাইচমিল, মেসার্স পান্না এন্টারপ্রাইজ। জীবননগরে চাল সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে মেসার্স শুকুর আলী রাইচমিল, মেসার্স আলী আহাম্মদ রাইচমিল, মেসার্স আব্দুল মালেক মোল্লা রাইচমিল, মেসার্স মা জননী রাইচমিল, মেসার্স রফিকুল রাইচমিল, মেসার্স মা রাইচমিল, মেসার্স আর কে রাইচমিল, মেসার্স রোকেয়া রাইচমিল, মেসার্স মা বাবার দোয়া রাইচমিল এবং মেসার্স লতিফ রাইচমিল। আলমডাঙ্গা উপজেলার ব্যর্থ নয়টি চালকল হলো মেসার্স মুনসেমি অটো রাইচমিল, মেসার্স আফসার উদ্দিন রাইচমিল, মেসার্স জননী রাইচমিল, মেসার্স জসিম উদ্দিন রাইচমিল এবং মেসার্স আবুল কালাম আজাদ রাইচমিল।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল ইসলাম জানান, কালো তালিকাভুক্ত চালকল মালিকরা দুই বছর সরকারি খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহ করতে পারবেন না। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত চাল সরবরাহে ব্যর্থ মালিকদের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।
চুয়াডাঙ্গা জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি এম আব্দুল্লাহ শেখ বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে চালকল মালিকরা কীভাবে সরকারি গুদামে তাদের চুক্তি অনুযায়ী চাল সরবরাহ করেন তা কেন্দ্রীয় খাদ্য অধিদপ্তর থেকে সরেজমিনে এসে দেখা উচিৎ। যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাস্তবসম্মত ভাবনা না থাকলে কোনো কিছুই ঠিকমতো হবে না। বাজারের সঙ্গে সংগতি নেই চালের সরকারি দরের। ফলে মালিকরা কেন এতো লোকসান দেবেন? যেখানে চাল উৎপাদন খরচ ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা সেখানে চালকল মালিকদের ৩৬ টাকায় চাল সরবরাহ করতে বলাটা কতটা যুক্তিপূর্ণ তা ভেবে দেখা উচিত।

আরও পড়ুন