চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর দিকে এগুচ্ছে শিশুটি

আপডেট: 08:40:32 19/07/2020



img

রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা (যশোর) : যে সময় সঙ্গীদের সঙ্গে খেলা করে বেড়ানোর কথা ঠিক সেই বয়সে রোগ শয্যায় আরমান হোসেন শরিফ। মারণ ব্যাধি ক্যানসার বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। চিকিৎসার অভাবে একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সে।
শরীফ যশোরের চৌগাছা উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের বাঘারদাড়ি গ্রামের আব্দুল্লাহ হোসেন লাল্টুর ছেলে ও স্বরুপদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।
আরমানের বাবা চৌগাছা শহরে তালা-চাবির ম্যাকানিকের কাজ করেন।  যৎসামান্য আয়ে খেয়ে না খেয়ে  পাঁচ ছেলে-মেয়েসহ সাত সদস্যের সংসার চলে তার। বর্তমানে করোনার কারণে খরিদ্দার নেই বললেই চলে।
মা ছায়েরা বেগম ও পরিবারের সদস্যরা জানান, এখন থেকে দুই বছর আগে বাড়ির পাশের রাস্তায় সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে বাম পা ও কোমরে আঘাত পায় আরমান শরিফ। দুর্ঘটনার দিনই চৌগাছা সরকারি হাসপাতালের অর্থোপেডিক ডাক্তার ইউনুচ আলীর কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়া হয়। সেখান থেকে কিছু ওষুধ খাওয়ার পরে পায়ের ব্যথা ভালো হয়ে যায়। কিন্তু রয়ে যায় কোমরের ক্ষীণ ব্যথা। দুই বছর পরে আরমান আবারো গুরুতর
অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রথমে ডা. ইউনুচ ও যশোরের ডা. আব্দুর রউফকে দেখানো হয়। এতেও সুস্থ না হওয়ায় খুলনার মাইক্রোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. তুষার আলমকে দেখানো হয়। সেখানে পরীক্ষার পরে ধরা পড়ে শরিফের কোমরের নয় নম্বর হাড় ভেঙে রয়েছে। যে কারণে ভাঙা হাড় থেকে ক্যালশিয়াম বেরিয়ে কোমরের নিচে বাম পায়ের উরুতে টিউমার আকার ধারণ করেছে। সেখানে বাসা বেঁধেছে  ক্যানসার । বর্তমানে ঢাকার ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হচ্ছে তারেক। বর্তমানে আরমান স্বাভাবিকভাবে  পেশাব-পায়খানা করতে পারে না । কৃত্রিমভাবে  চলে প্রাকৃতিক কর্ম।
একদিকে করোনা প্রাদুর্ভাব, অন্যদিকে টাকার অভাব- সামগ্রিক এই অবস্থায় চিকিৎসা বন্ধ করে বাড়িতেই রাখা হয়েছে আরমানকে।
ছেলেটির বাবা জানান, ম্যাকানিকের কাজ করে সংসারই চলে না। তার পরেও সহায় সম্বল বিক্রি করে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে চিকিৎসার জন্য।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দু-এক মাসের মধ্যে অপারেশন করলে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবে আরমান শরিফ। অপারেশন করতে খরচ হবে ৫-৭ লাখ টাকা।
‘আমার সহায়-সম্বল সব বিক্রি  করা শেষ। চৌগাছা ডিভাইন গ্রুপের অনুদানের ভিটেবাড়ি ছাড়া কিছুই নেই আমার। এখন স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওষুধ কিনতে হচ্ছে। কেউ সাহায্য না করলে ওষুধ কেনাও হয় না। এত টাকা পাবো কোথায় ? টাকার অভাবে বর্তমানে চিকিৎসা বন্ধ করে বাড়িতে রেখেছি।’
ছেলেকে বাঁচাতে হৃদয়বান বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন শরিফের বাবা লাল্টু ও মা ছায়েরা বেগম। সাহায্য পাঠাতে যোগাযোগ করতে পারেন এই  দুটি  সেলফোনে ০১৭৪০৪৬৭৫৭২, ০১৭৮৪৫৭১২১২।  নম্বর দুটি বিকাশ অ্যাকাউন্টযুক্ত।