ঘুষখোরকে হাতেনাতে ধরে সাসপেন্ড করলেন ডিসি

আপডেট: 09:58:18 17/10/2019



img

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : ভুক্তভোগীর বড় ভাই সেজে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল এক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার ঘুষ চাওয়ার প্রমাণ পেয়ে তখনই তাকে সাময়িক বরখাস্তের (সাসপেন্ড) নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে এই ঘটনাটি ঘটে সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নে। সাসপেন্ড কর্মকর্তার নাম মোকলেস আলী।
ওই ভুক্তভোগী জানান, তিনি ও তার বাবা বৃহস্পতিবার দুপুরে ধুলিহর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জমির মিউটেশন করাতে যান। এজন্য নির্ধারিত ফি এক হাজার ১৭০ টাকা হলেও তাদের কাছে পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয়। অনেক দেন-দরবার করেন তারা। কিন্তু ‘পাঁচ হাজারের এক টাকা কম হলেও কাজ হবে না’ বলে তাদের জানিয়ে দেন ওই ভূমি কর্মকতা। কাজ হাসিলের জন্য জুয়েল নামে এক দালালকেও দেখিয়ে দেন ওই কর্মকর্তা।
এ সময় ওই ভুক্তভোগী সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালের কাছে মোবাইল করে ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দেন। ভুক্তভোগীকে জেলা প্রশাসক তার বড় ভাই পরিচয়ে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলিয়ে দিতে বলেন।
কথামতো ওই ভুক্তভোগী ধুলিহর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোকলেস আলীর কাছে নিজের ফোনটি দিয়ে বলেন, ‘আমার বড় ভাই আপনার সাথে একটু কথা বলবেন।’
এ সময় জেলা প্রশাসক নিজেকে ওই ভুক্তভোগীর বড় ভাই পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘ভাই চার হাজার টাকা নেন। আমরা গরিব মানুষ। কাজটি করে দেন।’
উত্তরে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোকলেস আলী বলেন, ‘ঠিক আছে, দেখবো।’
অভিযোগের সত্যতা পেয়ে পরপরই সেখানে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামানকে পাঠিয়ে দেন জেলা প্রশাসক।
সেখানে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় এবং ভূমি অফিসে বিভিন্ন কাজে আসা মানুষের সঙ্গে কথা বলে ওই কর্মকর্তার নিয়মিত ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হন সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
এর পরপরই বিকেলে ধুলিহর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোকলেস আলীকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশ দেন জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল।
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর সাতক্ষীরা রাজস্ব প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শপথবাক্য পাঠ করিয়ে জেলা প্রশাসনকে ‘দুর্নীতিমুক্ত’ ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল।

আরও পড়ুন