গাড়ি নেই, ভোগান্তিতে মানুষ

আপডেট: 01:47:11 20/11/2019



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : নতুন সড়ক আইন সংশোধনের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট পালন করছে চালক ও শ্রমিকরা। অঘোষিত এই ধর্মঘটে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ বেশিরভাগ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরা। এদিকে নয় দফা দাবিতে আজ বুধবার (২০ নভেম্বর) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।
সড়ক আইন সংশোধনের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো খুলনায় ধর্মঘট পালন করছে চালক ও শ্রমিকরা। আজও খুলনা থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। অভ্যন্তরীণ বেশিরভাগ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
এ অবস্থার যাত্রীরা জরুরি প্রয়োজনে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে করে বাগেরহাট, কাটাখালী ও গোপালগঞ্জ যাচ্ছেন।
মো. ইমরান হোসেন নামে এক ছাত্র বলেন, ‘তিন দিন ধরে খুলনায় অবস্থান করছি। আমার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর। জরুরি প্রয়োজন রয়েছে গ্রামে। এ কারণেই খুলনা থেকে ইজিবাইকে করে ২০০ টাকা দিয়ে গোপালগঞ্জ যাচ্ছি। সেখান থেকে অন্য গাড়ি পাবো কিনা জানি না।’
বাসচালক মনিরুজ্জামান মনির বলেন, মালিক বা শ্রমিকনেতারা সড়কে গাড়ি নিয়ে নামেন না। তাই চালকদের সমস্যা উনারা বুঝবেন না। চালকদের জেল জরিমানা হলে উনারা তখন পাশেও থাকবেন না। জেলে গেলে চালকই যাবে। তাই চালকরা গাড়ি চালানোর পক্ষে নেই। চালকদের কোনো সংগঠনও নেই। এরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছে।
সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে কুড়িগ্রাম থেকে সব রুটে বাস, মিনিবাস ও ট্রাক-ট্যাংকলরিসহ সব গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রেখেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
কুড়িগ্রাম জেলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফর রহমান বকসি বলেন, ‘বুধবার সকাল থেকে সব ধরনের গণপরিবহনের শ্রমিকরা অঘোষিত কর্মবিরতি শুরু করেছে বলে জানতে পেরেছি।’
পরিবহন মালিক সমিতির এই নেতা বলেন, ‘শ্রমিকদের এই আল্টিমেটাম যৌক্তিক, তবে ঘোষণা ছাড়া এভাবে কর্মবিরতিকে যৌক্তিক মনে করি না।’
ঝিনাইদহে তৃতীয় দিনের মতো পরিবহন ধর্মঘট চলছে। গত দুই দিন স্থানীয় রুটে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও আজ থেকে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলও বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। সকাল থেকে শহরের কেন্দ্রীয় বাসটারমিনাল, আরাপপুর, বাইপাস মোড় এলাকায় বাস ও যানবাহনের জন্য যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অনেকে বাস না পেয়ে ইজিবাইক ও মহাসড়কে চলাচলে নিষিদ্ধ তিন চাকার যানবাহনে চলাচল করছেন।
নতুন সড়ক আইন সংশোধনের দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় তৃতীয় দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলছে। প্রথম দিকে বাস ধর্মঘট শুরু হলেও আজ বুধবার সকাল থেকে একই দাবিতে শুরু হয়েছে ট্রাক ও পণ্যবাহী পরিবহন ধর্মঘট।
আজও চুয়াডাঙ্গা থেকে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা রুটে সব ধরনের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। ট্রাক ও পণ্যবাহী পরিবহন ধর্মঘট শুরু হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কাঁচামাল ব্যবসায়ীরাও।
পরিবহন শ্রমিক আইন বাতিলের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড ও কাঁচপুর পয়েন্টে এবং নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় ধর্মঘটের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। বুধবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে পরিবহন শ্রমিকরা সড়কে যান চলাচলে বাধা দেন। এসময় কোনো যানবাহন চলাচল করতে গেলেই শ্রমিকরা ওই পরিবহনের চালকের ওপর হামলা করে।
এতে সকাল থেকেই যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। শিক্ষার্থীরা বাহন না পেয়ে বাসায় ফিলে গেলেও অফিসগামী মানুষজনকে রিকশা ও বিকল্প পথে ঢাকায় যেতে দেখা গেছে। আর এ সুযোগে রিকশা ও ভ্যানচালকরা দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে।
নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান চালাচ্ছে না চালক ও শ্রমিকরা।
আন্তঃজেলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি মনির আহমদ বলেন, নয় দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। দাবি মানা না হলে চালক ও শ্রমিকরা গাড়ি চালাবে না বলে জানিয়েছেন।
এদিকে ধর্মঘটের কারণে মাদারবাড়ী, কদমতলী, নিমতলাসহ চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় টারমিনালে অলস বসিয়ে রাখা হয়েছে পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান। ফলে বুধবার সকাল থেকে সড়কে কোনো ট্রাক কাভার্ডভ্যান দেখা যাচ্ছে না। তবে বন্দর থেকে কনটেইনার পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইম মুভার বা ট্রেইলার চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংস্কারের দাবিতে দিনাজপুরের হিলি-বগুড়া পথে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন চালকরা। সেই সঙ্গে আজ সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল। তবে হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিসহ বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে, চলছে লোড-আনলোড ও খালাস কার্যক্রম।
হিলি বগুড়া পথে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন, বিকল্প উপায়ে বাড়তি ভাড়ায় ভ্যান, রিকশা বা সিএনজিতে করে তারা গন্তব্যে যাচ্ছেন।
সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের প্রতিবাদে মাদারীপুরে আজ সকাল থেকেই স্থানীয় ও দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে মাদারীপুরের নতুন ও পুরনো উভয় বাসস্ট্যান্ড থেকেই বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তাই বাস ও মিনিবাসের বিকল্প হিসেবে যাত্রীরা ইজিবাইক ও নসিমনে করে নির্ধারিত গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে দূরপাল্লার যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন বেশি।
সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে মেহেরপুরে টানা তিন দিন ধরে বাস ধর্মঘট চলছে। আজ থেকে শুরু হয়েছে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ধর্মঘট। ফলে সকাল থেকে কোনো পণ্যবাহী পরিবহন জেলা থেকে ছেড়ে যায়নি। পাশপাশি বন্ধ রয়েছে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস। জেলাটি কৃষিপ্রধান হওয়ায় চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে কৃষক ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কৃষি ব্যবসায়ী এবং ভোক্তারা।
এদিকে তিন দিন ধরে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রী দুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে। জরুরি কাজে গন্তব্যস্থলে যেতে পারছেন না সাধারণ মানুষ।
নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে সাতক্ষীরায় তৃতীয় দিনের মতো ধর্মঘট পালন করছে শ্রমিকরা। কেন্দ্রীয় বাসটারমিনাল থেকে বুধবার সকাল থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। বন্ধ রয়েছে অভ্যন্তরীণ রুটের সব বাস চলাচলও। বাস চলাচল বন্ধে বিপাকে পড়েছেন দূর-দূরান্তের যাত্রীরা।
এদিকে, ধর্মঘটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে। এর ফলে বিপাকে পড়েছেন ভোমরা স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা। ট্রাক ঠিকমতো না পাওয়ায় তাদের দ্বিগুণ খরচে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে। তবে আমদানি-রফতানিতে তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছেন শুল্ক স্টেশনের কর্মকর্তারা।
এছাড়া দিনাজপুর, কুমিল্লাতেও পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছে চালক ও শ্রমিকরা। ধর্মঘটের কারণে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। যার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন