খুলনায় এখনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি

আপডেট: 05:30:57 09/04/2020



img

খুলনা অফিস : খুলনায় এখনো পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। সবকিছু বন্ধ থাকায় যারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তাদের সহায়তার জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ আছে। বন্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশন হলে সরকারের সকল কাজে সমন্বয় করা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।
খুলনা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় সার্কিট হাউজে ‘করোনা পরিস্থিতি, কর্মহীন মানুষের জন্য সরকারি ত্রাণ বিতরণ’ বিষয়ে মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, নগরীতে ১৬ লাখসহ খুলনা জেলায় ২৪ লাখ মানুষের বাস। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এসকল মানুষের নিয়মিত খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। জাতির এই ক্রান্তিকালে সাংবাদিকরা যদি দায়িত্বশীল হয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেন তাহলে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, খুলনা জেলার জন্য ইতোমধ্যে ৮০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৪১ লাখ নগদ অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিন লাখ টাকা শিশুখাদ্যের জন্য বরাদ্দ আছে। এর সঙ্গে স্থানীয় মজুদ যোগ করে ইতোমধ্যে ৯৫০ টন চাল ও ১৫ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এসকল সাহায্য জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিতরণ চলছে।
জেলা প্রশাসক আরো জানান, সাধারণ রোগে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য একটি অনলাইন সেবা চালু প্রক্রিয়াধীন আছে। সেটা দু’একদিনের মধ্যেই চালু হবে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুন্সী মো. রেজা সিকান্দার জানান, খুলনায় করোনাভাইরাস টেস্ট শুরু হওয়ার পর দুইদিনে ৩৪টি নমুনার মধ্যে কোনো করোনাভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়নি।
তিনি জানান, খুলনা ডায়েেবটিক হাসপাতাল ইতোমধ্যে করোনভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এখানে চারটি ভেন্টিলেটর সুবিধাসহ ১০০টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭০ জন চিকিৎসক এবং ৪২ জন নার্সের সমন্বয়ে চিকিৎসাদল গঠন করা হয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফ্লু কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। এখানে করোনাভাইরাস সন্দেহ বা শনাক্ত হলে তাদেরকে ডায়েেবটিক হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হবে। চিকিৎসকরা নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে অবস্থান করবেন। রোগীদের আইসোলেশনের জন্য অ্যাম্বাসেডর এবং মিলিনিয়াম হোটেল দুটো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
খুলনায় এক হাজার ৯৫০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ইতোমধ্যে এক হাজার ৮৩৫ জনকে মুক্ত করা হয়েছে। ১৭ জন আইসোলেশনে আছেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে কেএমপির বিশেষ পুলিশ সুপার শাকিল, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার ম. জাভেদ ইকবাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জিয়াউর রহমান, প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন