খানপুরে তিন মাস বন্ধ জন্ম নিবন্ধন

আপডেট: 06:49:33 14/09/2021



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: আগামী বছর মেয়ে সুরাইয়া আলমকে (৬) স্কুলে ভর্তি করাবেন বলে গেল জুন মাসে ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেন মাচনা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম। আবেদনের তিন মাস পার হলেও জন্মসনদ হাতে পাননি তিনি।
মেয়ে সুমাইয়া খাতুনের জন্ম নিবন্ধন না থাকায় তিনমাস আগে খানপুর ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম সনদের আবেদন করে পাননি শেখপাড়া খানপুর গ্রামের ইজ্জেত আলী।
শুধু জাহাঙ্গীর বা ইজ্জেত আলী নন, খানপুর ইউনিয়নের এমন দুইশ' ব্যক্তি সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করে রেখেছেন। তারা কেউ সনদ হাতে পাননি।
কোড জটিলতার জন্য ওই ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম নিবন্ধনের কাজ আটকে আছে তিনমাস ধরে। একাধিকবার পরিষদের পক্ষ থেকে ইউএনওসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও সুরাহা হয়নি।  
খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের বেসরকারি উদ্যোক্তা বাহারুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৫ জুন থেকে জন্ম নিবন্ধনের কাজে সমস্যা হচ্ছে। মণিরামপুর উপজেলার ১৭ সংখ্যার ব্যাপন নম্বরে উপজেলা কোড ৬১। কিন্তু জন্ম নিবন্ধনের রেজিস্ট্রেশন করে ডাউনলোড দিতে গেলে উপজেলা কোডে ৬১ এর বদলে ৬২ আসছে। এই কারণে মূলত কাউকে জন্ম নিবন্ধনের কপি দিতে পারছি না। গত তিনমাসে অন্তত ২০০ জন জন্মসনদের জন্য আবেদন করেছেন। সবারটা জমা পড়ে আছে।’
‘বিষয়টি নিরসনে মণিরামপুরের ইউএনও, যশোরের ডিডিএলজি, স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার্ড জেনারেল বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। কোনো কাজ হয়নি।
খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরিদ হোসেন বলেন, মাসখানেক আগে জন্ম নিবন্ধনে উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ে সব ইউপি সচিবদের সাথে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবসহ অন্য কর্মকর্তাদের জুম মিটিং হয়েছিল। সেখানে আমি বিষয়টি উপস্থাপন করেছিলাম। মিটিং চলা অবস্থায় সমস্যাটি সমাধান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি,’ যোগ করেন বাহারুল।
খানপুর ইউপি চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘জন্ম নিবন্ধনের আবেদন নিয়ে নিয়মিত লোকজন পরিষদে আসছেন। আমরা কোনো কাজ করতে পারছি না। কোডের সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব অফিসে একাধিকবার বলছি। ইউএনও-কে অন্তত ছয় বার বিষয়টি জানাইছি। কাজ হয়নি।’
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, ‘খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম নিবন্ধনের জটিলতার বিষয়টি কোড সরবরাহ কর্তৃপক্ষকে চিঠি ও ফোনের মাধ্যমে একাধিকবার জানিয়েছি।’

আরও পড়ুন