কোভিড রোগী শনাক্তের তুলনায় মৃত্যু বেশি

আপডেট: 06:59:49 26/09/2020



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একদিনে আরো ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ১০৬ জন।
শনিবার বিকেলে সংবাদ মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য জানানো হয়।
শুক্রবার দেশে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন এক হাজার ৩৮৩ জন, মৃত্যু হয়েছিল ২১ জনের।
তার সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, নতুন শনাক্ত রোগী কমলেও মৃত্যুর সংখ্যা বেশ বেড়েছে।
গত ২ আগস্টের পর শনিবারই সবচেয়ে কম রোগী শনাক্তের খবর দিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কুরবানির ঈদের সময় ২ আগস্ট ৮৮৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল।
দেশে ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছিল গত ২ জুলাই, চার হাজার ১৯ জন।
নতুন শনাক্ত এক হাজার ১০৬ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা তিন লাখ ৫৭ হাজার ৮৭৩ জনে দঁড়িয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১০৪টি ল্যাবে দশ হাজার ৭৬৫টি নমুনা পরীক্ষা করে এক হাজার ১০৬ জন রোগী পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ১৮ লাখ ৯৮ হাজার ৭৭৫টি নমুনা।
২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো এক হাজার ৭৫৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দুই লাখ ৬৮ হাজার ৭৭৭ জন হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৭৫ দশমিক ১০ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
গত এক দিনে মারা যাওয়া ৩৬ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা পাঁচ হাজার ১২৯তে দাঁড়ালো।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে গত ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের দশ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এর মধ্যে গত ৩০ জুন একদিনে ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা ২৪ ঘণ্টার হিসেবে সর্বাধিক।
জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে পঞ্চদশ স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ২৯তম অবস্থানে।
গত এক দিনে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ২৫ জন, নারী ১১ জন। তাদের মধ্যে ৩৫ জন বাড়িতে এবং একজন হাসপাতালে মারা গেছেন।
মৃতদের মধ্যে ২১ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। আটজনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, সাতজনের ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ছিল।
তাদের মধ্যে ২৩ জন ঢাকা বিভাগের, আটজন চট্টগ্রাম বিভাগের, দুইজন সিলেট বিভাগের, একজন করে খুলনা, বরিশাল বিভাগের এবং ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া পাঁচ হাজার ১২৯ জনের মধ্যে তিন হাজার ৯৭৪ জন পুরুষ এবং এক হাজার ১৫৫ জন নারী।
তাদের মধ্যে দুই হাজার ৫৯৪ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এক হাজার ৩৮৯ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৬৬৮ জনের ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ২৯৪ জনের ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১১৮ জনের ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৪২ জনের ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ২৪ জনের বয়স ছিল দশ বছরের কম।
মোট মৃতদের মধ্যে দুই হাজার ৫৪৬ জন ঢাকা বিভাগের, এক হাজার ৬০ জন চট্টগ্রাম, ৪২৯ জন খুলনা, ৩৩৬ জন রাজশাহী,  ১৮৭ জন বরিশাল, ২২৬ জন সিলেট, ২৩৭ জন রংপুর এবং ১০৮ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
সূত্র : বিডিনিউজ

আরও পড়ুন