কোটচাঁদপুরে গ্রাম ‘লকডাউন’, পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে খাদ্য

আপডেট: 02:32:11 04/04/2020



img
img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার দোড়া ইউনিয়নের দয়ারামপুর গ্রাম স্থানীয়ভাবে ‘লকডাউন’ করা হয়েছে। বাইরের অপরিচিত কাউকে গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
লকডাউন করার পর গ্রামের দুস্থ ও গরিব মানুষের তালিকা করে বাড়ি বাড়ি চাল, ডাল ও তেলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন নিশ্চিত করে গ্রাম থেকে বাইরে এবং বাইরে থেকে ফিরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে গ্রামে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। বাইরে থেকে প্রবেশের সময় সমস্ত শরীরে জীবাণুনাশক স্প্রে করে দেওয়া হচ্ছে। গ্রামের মানুষের মধ্যে তিন হাজার মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। ১ এপ্রিল থেকে এমনটি চলছে।
‘লকডাউন’ সমন্বয়কারী তারিক হাসান জানান, গ্রামের ৬০ জনের স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেখানে তারা তিন শিফটে কাজ করছেন। গ্রামের পাঁচটি মোড়ে তারা চেকপোস্ট বসিয়েছেন। আর চলছে টহল। পুরো গ্রামটিকে নজদারিতে রাখা হয়েছে। গ্রামের মোড়ের রাস্তায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও জীবাণুনাশক স্প্রে নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন স্বেচ্ছাসেবকরা।
তাদের ভাষ্য, স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই এই কাজ করা হচ্ছে। করোনাভাইরাসের প্রকোপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এমনটি চলবে। গ্রামের সবাই মিলে চেষ্টা করা হচ্ছে গ্রামটিকে সুরক্ষিত রাখতে। ১ এপ্রিল ‘লকডাউন’ করা হয় গ্রামটি। এখন খুব প্রয়োজন ছাড়া কাউকে গ্রামের বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
সমন্বয়কারী তারিক বলছেন, ‘‘সবাইকে আমরা নজরদারিতে রাখছি। ‘লকডাউন’ করায় গ্রামের গরিবদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তাদের তালিকা করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্রামের মানুষের মধ্যে তিন হাজার মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে।’’
দোড়া ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মহিদুল ইসলাম জানান, তারেকের নেতৃত্বে ৬০ জন যুবক যে কাজ করছে, তা প্রশংসনীয়। এভাবে চলতে থাকলে গ্রামটি সুরক্ষিত থাকবে বলে তাদের আশা।
দোড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাবিল উদ্দীন বিশ্বাস বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নের এমন কাজ বেশ প্রশংসা পাচ্ছে। গ্রামের মানুষ এখন অনেকটাই শঙ্কামুক্ত। আমি সব সময় তাদের খোঁজ-খবর রাখছি।’

আরও পড়ুন