কুষ্টিয়ায় মাদকাসক্ত ৮ পুলিশ চাকরিচ্যুত

আপডেট: 02:19:28 30/11/2020



img

শ্যামলী খন্দকার, কুষ্টিয়া : ডোপ টেস্টে মাদক সেবনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় কুষ্টিয়া জেলায় কর্মরত আট পুলিশ সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত মাদক সেবন করেন- সন্দেহভাজন এমন ১২ পুলিশ সদস্যের ডোপ টেস্ট করা হয়েছে। পরীক্ষায় ও অধিকতর তদন্তে নিয়মিত মাদক সেবন করেন বলে প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশ সদরদপ্তরের সিদ্ধান্তে ওই আটজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজন উপপরিদর্শক (এসআই), দুইজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবং বাকিরা কনস্টেবল।
শাস্তিপ্রাপ্তরা হলেন এসআই হামিদুর রহমান, এসআই নাজিম উদ্দিন, এএসআই জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই নাঈম মাহমুদ, কনস্টেবল বিপ্লব হোসেন, কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম, কনস্টেবল নাহিদ হাসান, কনস্টেবল মাজহারুল ইসলাম।
এছাড়াও ডোপ টেস্টে পজেটিভ রিপোর্ট আসা আরো দুইজনকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আর ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্ট সৈয়দ আরাফাত আলীসহ অন্য দুইজনের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
সোমবার বেলা ১১টায় পুলিশ লাইনে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত।
তিনি বলেন, আইজিপির নির্দেশে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরার অভিযান জোরদারের পাশাপাশি পুলিশেও শুরু হয় শুদ্ধি অভিযান। ২০১৯ সালের মে মাসে কুষ্টিয়ায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই সময় সহেন্দভাজন ও গোয়েন্দাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রথম কয়েকজন পুলিশ সদস্যের ডোপ টেস্ট করানো হয়। গত দেড় বছরে পর্যায়ক্রমে ১২ জনের ডোপ টেস্ট করা হয়। পরীক্ষায় দশজন নিয়মিত মাদক সেবন করেন বলে রিপোর্ট (পজিটিভ) আসে। তারপর এসব পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত শেষে আটজনকে চাকরিচ্যুত করেছে পুলিশ অধিদপ্তর।
মাদক সেবনকারী এসব পুলিশ সদস্য বিভিন্ন থানা ও ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। বাকি দুইজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আরো দুইজনের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান এসপি।
তিনি বলেন, মাদকের বিষয়টি ধরা পড়ার পর ওইসব পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি প্রথম দিকে অন্য জেলায় বদলি করা হয়। এর মধ্যে এক এসআই-কে রাঙামাটিতে বদলি করা হয়। ধরা পড়া অন্য সবাইকে বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়। আর যে দুইজনের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে তাদের মধ্যে ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্টকে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত রাখা হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘মাদকের সঙ্গে কোনো আপস নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি-ও মাদকের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই পুলিশে শুদ্ধি অভিযান চলছে, চলবে। আমরা কুষ্টিয়া থেকে মাদক নির্মূলের পাশাপাশি পুলিশ থেকেও চিরতরে মাদকাসক্তদের বাড়িতে পাঠাতে চাই। পুলিশ ডিপার্টমেন্টে কোনো মাদক সেবনকারী থাকতে পারবে না।’

আরও পড়ুন