কলারোয়ায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়কের দাবি

আপডেট: 06:39:38 13/01/2021



img

কে এম আনিছুর রহমান, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) : শহীদদের নামে কলারোয়ায় সড়কগুলোর নামকরণের দাবি তুলেছে 'সচেতন নাগরিক সমাজ'।
তাদের দাবি, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে হলে স্থানীয় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নাম পরিচয় জানানো প্রয়োজন। সমৃদ্ধ ইতিহাসের চর্চা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার অংশ হিসেবে সড়কের নামকরণ শহীদদের নামে হওয়া জরুরি। প্রয়োজনে সাহসী সংগ্রামী জীবিত ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামেও সড়ক হতে পারে। এর জন্য কলারোয়া পৌরসভার অভিভাবকসহ উপজেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলকে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত শতাব্দীতে কলারোয়া পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে শহীদদের নামে অনেকগুলো সড়কের নামকরণ ও ফলক লাগানো হয়েছিল। কিন্তু পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি ও প্রচারণার অভাবে নামকরণের সেই ফলক ও সাইনবোর্ডগুলো বিলীন হয়ে যায়। তবে এখনো শহরের বিভিন্ন সড়কে দুই-একটা সাইনবোর্ড এই সত্যতার ইঙ্গিত বহন করছে।
কলারোয়া পৌরসভার মেয়র প্রার্থী মাস্টার মনিরুজ্জামান বুলবুল বলেন, কলারোয়ায় মুক্তিযুদ্ধের আন্দোলন সংগ্রামে শহীদ হন গোপালগঞ্জের মুন্সী সাহেব আলী, মুন্সী মহাসীন আলী, সুভাষচন্দ্র, শিশিরচন্দ্র, মনোরঞ্জনসহ পাঁচ বীর যোদ্ধা। সেই বীরদের নামে কলারোয়ার প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনের রাস্তা থেকে পশুহাট পর্যন্ত সড়কের নামকরণ হওয়া উচিত। এই সড়কেই ওই বীর যোদ্ধাদের রক্ত ঝরেছে।
তিনি আরো বলেন, এক সময় কলারোয়া শহরের অনেক সড়কের নাম শহীদদের নামকরণে হয়েছিল। কিন্তু সচেতনতার অভাবে আজ সেই সব নাম হারিয়ে গেছে। ১৯৭১ সালের ১৭ মে শহীদদের স্মরণে দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-২০১৯ সালে কলারোয়া বাজার বলফিল্ড-সংলগ্ন ছয়টি গণকবর মেরামত ও সংরক্ষণ করে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে অবহেলায় অযত্নে পড়ে রয়েছে ওই গণকবরগুলো।
বীর মুক্তিযোদ্ধারের স্মৃতি তুলে ধরে কথা বলেন অ্যাডভোকেট শেখ কামাল রেজা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাস চর্চা, গবেষণা ও লেখালেখির কাজ করছেন। এই লেখক বলেন, 'আমি নিজের চোখেই কলারোয়া পাকা ব্রিজ থেকে পাইলট হাইস্কুলের সামনে পর্যন্ত শহীদদের নামে সরণির নামফলক দেখেছি। কলারোয়া পৌরসভার দলিল অনুসারে শহরের বিভিন্ন সড়কের নাম মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদের নামে হয়েছিল।' ইতিহাস চর্চা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার অংশ হিসেবে সড়কের নামকরণ শহীদদের নামে হওয়া জরুরি বলে তিনি দাবি করেন।
কলারোয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র গাজী আক্তারুল ইসলাম বলেন, 'বিভিন্ন সময়ে কলারোয়া শহরের অনেক সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের নিজেদের দায়িত্বহীনতার কারণে সেই সরণিগুলো এখন নতুন প্রজন্মের কাছে অজানা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিকাশে একেকটি নাম অনেক গুরুত্ববহ। অথচ এব্যাপারে কারো কোনো উদ্যোগ নেই।'
এদিকে যুদ্ধকালীন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেম উদ্দীন বলেন, 'পৌরসভার মেয়র ও তার পরিষদ চাইলে নব্বই দশকের দলিল বের করে সড়কগুলোর নাম নিশ্চিত হয়ে পুনরায় সড়কের নামফলক ও ফলক লাগিয়ে দেওয়া সম্ভব। এতে অন্তত আগামী প্রজন্ম জানতে পারবে, চিনতে পারবে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মাহুতি দেওয়া কলারোয়ার বীর শহীদদের। পাশাপাশি শহীদদের নামের সড়কগুলোর নাম ব্যবহার ও প্রচার করতেও সকলকে সচেতন করতে হবে। তবেই পূর্ণতা পাবে নামকরণের সার্থকতা।'

আরও পড়ুন