করোনায় বিপর্যস্ত দেশে এলো ত্যাগ ও উৎসবের ঈদ

আপডেট: 01:11:54 01/08/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে এবার দেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। ত্যাগ ও উৎসবের তাৎপর্যপূর্ণ উৎসব এই ঈদ; যা আমাদের দেশে 'কুরবানির ঈদ' নামে পরিচিত।
করোনা মহামারির মধ্যে দেশে গত ঈদে (ঈদুল ফিতর) চিরচেনা উৎসব চোখে পড়েনি। তবে এবারের চিত্র গতবারের তুলনায় খানিকটা আলাদা। শেষ মুহূর্তে পশুর হাট, শপিংমল, বাজারে কিছুটা ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
ঈদুল আজহা আসে আত্মত্যাগের মহিমা নিয়ে। আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান প্রত্যেক নর-নারীর জন্য এই ঈদে পশু কুরবানি করা ওয়াজিব। আমাদের দেশে গরু ও ছাগলই কুরবানি করা হয় বেশি। অল্প কিছু মহিষ, ভেড়া, উট-দুম্বাও কুরবানি করা হয়। ধর্মীয় বিধান অনুসারে ১০ জিলহজ ঈদ। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে এদিন পশু কুরবানি করা হয়। তবে ১১ ও ১২ জিলহজ তারিখেও কুরবানি করা যায়।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তার উদ্দেশে পশু কুরবানির ভেতর দিয়ে নিজেদের ভেতরের পশুত্ব ও লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষকে কুরবানি করাই এই ঈদের মূল তাৎপর্য।
ধর্মীয় বিশ্বাস মতে, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রাণপ্রিয় ছেলে হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কুরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। তবে আল্লাহর কুদরতে ইসমাইল (আ.)-এর বদলে একটি দুম্বা কুরবানি হয়ে যায়।
ঈদের দিন সকালে ঈদগাহে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজের খুতবায় খতিবরা এই ঘটনার বয়ান দেন এবং কুরবানির তাৎপর্য তুলে ধরেন। তবে এবার আগেই সরকারিভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য ঈদগাহে ঈদের জামাত করা যাবে না। মসজিদগুলোতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। গত ঈদুল ফিতরেও ঈদগাহে নামাজের ব্যবস্থা করা হয়নি।
কুরবানির ঈদের আগে আগে পশু কেনা, তার পরিচর্যা করার মধ্য দিয়ে যে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, শহরের দৃশ্যপটে এবার তা খুব একটা দেখা যায়নি। ক্রেতারা হাট থেকে গরু কিনে গলায় জরির মালা, শিংয়ে রাংতা জড়িয়ে দড়ি ধরে টানতে টানতে বাসায় নিয়ে যাওয়ার সেই দৃশ্য এবার কমই চোখে পড়েছে। যারা কুরবানি দিচ্ছেন, তারাও হাটে হাটে বেশি ঘোরাফেরা না করে চটজলদি পশু কিনে বাসায় ফিরছেন। অনলাইন হাট থেকেও অনেকে পশু কিনেছেন।
গত ৩১ মে থেকে লকডাউন উঠে যাওয়ার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস-ট্রেন-লঞ্চসহ সব যানবাহন চালু হয়েছে। তবে নিরাপদ থাকতে অনেকে ঈদে গ্রামে যাওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। ফলে বরাবর বাসটারমিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে ঈদের সপ্তাহখানেক আগে থেকে ব্যাগ-বোঁচকা নিয়ে যে বিপুল জনস্রোত দেখা যায়, শেষের দিকে এক-দুই দিন ছাড়া সেই দৃশ্য এবার ছিল না।

আরও পড়ুন