উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ, যশোরে আনন্দ উদযাপন

আপডেট: 07:31:35 07/03/2021



img

স্টাফ রিপোর্টার : ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ ও বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ প্রাপ্তিতে আনন্দ উদযাপন অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন। ওই বক্তব্যে বাঙালি নিরস্ত্র থেকে সশস্ত্র রূপ নিয়ে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করে।  
তিনি বলেন, এর আগে বাঙালি রাজনীতিবিমুখ ছিল। বঙ্গবন্ধু তার সারাটি জীবন শহর থেকে গ্রামে, গ্রাম থেকে মহল্লায় সাধারণ মানুষ যে পাকিস্তানি শাসকদের দ্বারা শোষিত, নির্যাতিত, নিষ্পেষিত এবং তা থেকে মুক্তি পেতে মানুষকে সংগঠিত করেন। যার ফলে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা দিতে অস্বীকার করে।  
তার দূরদর্শিতা, সাহস আর সুদূরপ্রসারী চিন্তার ফসল আজকের এই সুন্দর বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর পরাজিত ওই শক্তি বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় আবার ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতায় তাদের সেই আশা পূরণ হয়নি। দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রামে আজ বাংলাদেশ বিশ্বে একটি আলোচিত দেশের নাম।
তিনি আজ রোববার বিকেলে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে জেলা পুলিশের আয়োজনে আনন্দ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানঅতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ। তিনি বলেন, একসময় বাংলাদেশকে কটাক্ষ করে বলা হতো তলাবিহীন ঝুড়ি। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে গত ১২ বছরে দেশে প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। আজ ইউনেস্কো আমাদের এলডিসি থেকে উন্নয়শীল দেশে রূপান্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। আর এ কাজ সম্ভব হয়েছে কেবল বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কারণে।
তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে সারাবিশ্বে পাঁচটি দেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছে। যারমধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা এমডিজির আটটি সূচকে অগ্রগতিলাভ করেছি। এখন টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছি। তিনি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে যশোর অঞ্চলে মাদক, সন্ত্রাসকে না এবং উন্নয়ন, স্বস্তি ও শান্তিকে হ্যা বলার জন্যে জেলা পুলিশের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।    
বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৭ মার্চ একদিনে হয়নি। অনেকগুলো ধাপ পেরিয়ে এসেছে- ১৯৪৯, ১৯৫৪, ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭০ সালের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষিতে। পৃথিবীর একটি মাত্র দেশ, যা সৃষ্টি হয়েছে একটি ভাষাকে রক্ষা করার জন্যে। ভাষার অধিকার আদায়ে মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। এই দেশে একজন মানুষের বক্তৃতায় সাধারণ মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। সেই একজন হচ্ছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।  
যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে বক্তৃতা করেন পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বৃহত্তর যশোরে মুজিব বাহিনী (বিএলএফ) প্রধান আলী হোসেন মনি, সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনির, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, যশোর পৌরমেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু প্রমুখ।  
অনুষ্ঠানের শুরুতে রঙিন বেলুন উড়ানো এবং কেক কাটা হয়।

আরও পড়ুন