ঈদগাহ ও মাদরাসার জমিতে নেতার ঘর নির্মাণ

আপডেট: 07:58:49 18/07/2020



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছার হাকিমপুর ইউনিয়নের আরাজি সুলতানপুর গ্রামের ঈদগাহ ও নুরানি মাদরাসার জমি দখল করে ইট দিয়ে পাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত শহিদুল উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক। তবে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আরাজি সুলতানপুর ঈদগাহ ও নুরানি মাদরাসার সভাপতি গোলাম রসুল বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম ইট দিয়ে পাকা ঘর নির্মাণ করছেন। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া তো দূরের কথা তিনি এ বিষয়ে কাউকে জানানওনি।
অভিযোগের ভিত্তিতে ওই স্থানে গিয়ে দেখা যায়, ঈদগাহ ও মাদরাসার পুব পাশে চৌগাছা-কোটচাঁদপুর সড়কে ঈদগাহ ও নুরানি মাদরাসাটির নামে বেশ কয়েকটি পাকা দোকানঘর রয়েছে। তার পেছনে প্রায় ১৫০-১৬০ বর্গফুটের একটি ইটের পাকাঘর নির্মাণ করছেন আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম। তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে মিস্ত্রিদের কাজ তদারক করছিলেন। সাংবাদিকদের দেখে তিনি পাশের একটি চায়ের দোকানে গিয়ে বসেন।
এসময় গ্রামের পথ দিয়ে বাজারের দিকে আসা স্থানীয় একজনের কাছে এখানে কে ঘর করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, কারো কোনো অনুমতি না নিয়ে জোরপূর্বক শহিদুল এই কাজ করছেন।
তিনি আরো বলেন, সামনে যে দোকানগুলো রয়েছে সেখানেও শহিদুল ইসলামের ভাইয়েরা ব্যবসা করেন। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তারা সেসব ঘরেরও ভাড়া দেন না।
পরে ওই স্থানে কর্মরত মিস্ত্রিদের কাছে ঈদগাহ ও মাদরাসার জায়গায় কে ঘর করছেন- জানতে চাওয়া হলে জবাবে তারা শহিদুল ইসলামের নাম বলেন।
এরপর চায়ের দোকানে গিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলামের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ঘর তৈরি করার কথা স্বীকার করেন। তবে বলেন, ঈদগাহ ও মাদরাসার জায়গা ঠিক আছে। মাদরাসা এখন আর চলে না।
এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি ভাড়া দেবো।’
ঘর করার আগে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছেন কি-না জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব দেননি।
হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। অন্য কয়েকটি দোকানও তার ভাইয়েরা পরিচালনা করলেও ঈদগাহ বা মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে তারা কোনো ভাড়া দেন না।
তিনি বলেন, ‘ঈদগাহ কমিটির সভাপতি ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ শহিদুল ইসলামের কাছে এই বিষয়ে বললে তিনি খারাপ ব্যবহার করেছেন বলেও আমাকে জানানো হয়েছে। আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানাবো।’

আরও পড়ুন