ইয়াবা দিয়ে চালান দেওয়ার অভিযোগ

আপডেট: 02:47:57 20/10/2019



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরা পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে হাবিবুর রহমান (২৩) নামে এক যুবককে ইয়াবা দিয়ে চালান দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ওই যুবকের বাবা মো. শহিদুল।
আজ রোববার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে শহিদুলের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পড়েন তার মেয়ে ফারিয়া সুলতানা ময়না।
এসময় উপস্থিত ছিলেন হাবিবুর রহমানের মা পারুল বেগম ও হাবিবুরের দুই ভাই মাহবুব ও জিসান আহমেদ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘আমি অত্যন্ত গরিব ও ফুটপাথের হোটেল ব্যবসায়ী। আর্থিক সমস্যার কারণে কর্মচারী রাখতে না পারায় আমি, আমার ছেলে এবং স্ত্রী মিলে বাঘারপাড়ার খাজুরা বাজারে একটি ক্ষুদ্র খাবার হোটেল চালাই। কিন্তু গত ১৫ অক্টোবর বুধবার আমার ছেলে হাবিবুর রহমানকে (২৩) গ্রামের বাড়ি ইন্দ্রা গ্রামে বর্গা জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য পাঠাই। এদিন সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্য খাজুরা বাজার তেলপাম্পে পৌঁছালে পূর্ব শত্র“তার জেরে খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই রফিকুল ইসলামের নির্দেশে সহকারী এএসআই হযরত আলী আমার ছেলেকে আটক করে।’
‘‘খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জের সাথে আমার একটি পুরনো সোফা সেট কেনা নিয়ে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। কয়েক দিন আগে আমার দোকানের পাশের ফার্নিচার ব্যবসায়ী লিটন সোফা সেটটি বিক্রি করার কথা বললে আমি প্রতিবেশী ব্যবসায়ী হওয়ায় কম মূল্যে সেটি কিনে নিই। সেদিন রাতে ক্যাম্প ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম আমাকে ফোন করে ক্যাম্পে যেতে বলে। আমি যেতে না চাইলে সে আমাকে বলে, ‘সোফা সেটটি আমি নিচ্ছি। এ ব্যাপারে কোন কথা বললে ফল ভালো হবে না।’ আমি বিষয়টি আমলে না নেওয়ায় সে রাগের বশবর্তী হয়ে আমার নির্দোষ ছেলেকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে বেদম মারপিট করে। এসময় ইনচার্জের মোবাইলে ভিডিও অন করে আমার ছেলের হাতে ৫০ পিচ ইয়াবা দিয়ে সে ব্যবসায়ী ও সেবনকারী হিসেবে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করে থানায় নিয়ে যায়। থানায় নিয়েও রাতভর তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায় পুলিশ।’’
লিখিত বক্তব্যে আরো উলে­খ করা হয়, ‘পরদিন সকালে থানায় গেলে বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দীন ও খাজুরা ক্যাম্পের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম থানার বকশী নাছিমার মাধ্যমে আমাকে সিড়ির নিচে ডেকে নিয়ে এক লাখ টাকা দিলে আমার ছেলেকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানায়। আমি গরিব মানুষ। আমার পক্ষে এতো টাকা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় আমানুষিক নির্যাতন করে আমার নিরীহ ছেলেকে মিথ্যা মাদক মামলা দিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে। আমার এবং আমার ছেলে সম্পর্কে এলাকার কোনো লোকই খারাপ বলতে পারবে না।’
তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানার জন্য যোগাযোগ করা হয় খাজুরা পুলিশক্যাম্প ইনচার্জের ফোনে। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে বাঘারপাড়া থানার ওসি জসিমউদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে ওঠানো অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ওসির ভাষ্য, ‘ওই ব্যক্তিকে ক্যাম্প ইনচার্জ ইয়াবাসহ আটক করেন। তাকে আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে। ইয়াবা ব্যবসায়ীরা বাঁচার জন্য নানা ধরনের মিথ্যা কথা বলেই থাকে।’

আরও পড়ুন