ইলা মিত্রের জন্মদিনে শৈলকুপায় নানা কর্মসূচি

আপডেট: 06:42:56 18/10/2019



img

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের কিংবদন্তি ও ‘নাচোলের রাণীমা’খ্যাত বিপ্লবী কমরেড ইলা মিত্রের ৯৪তম জন্মবার্ষিকীতে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
১৯২৫ সালের ১৮ অক্টোবর কলকাতায় জন্ম গ্রহণ ইলা মিত্র।
দিনটি উপলক্ষে ১৮ অক্টোবর শুক্রবার সকাল দশটায় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বাগুটিয়া গ্রামের পৈত্রিক ভিটেয় ইলা মিত্রের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন এবং বিকেল চারটায় শৈলকুপা উত্তরণ স্কুল মিলনায়তনে আলোচনা সভা হয়।
ইলামিত্র স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক সাংবাদিক আব্দুর রহমান মিল্টন, সদস্য-সচিব সুজন বিপ্লবসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতা ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। এসময় তারা ইলা মিত্রের পৈত্রিক ভিটেবাড়িটি সংরক্ষণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।
১৯৪৬-৪৭ সালে ফসলের দুই-তৃতীয়াংশের ওপর কৃষককের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বাংলার ১৯টি জেলায় গড়ে ওঠে তে-ভাগা আন্দোলন। তে-ভাগার দাবিতে রাজশাহী জেলার, বিশেষ করে নাচোলের কৃষকদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখেন ইলা মিত্র। ফলে বিদ্রোহ ঘটে নাচোলে। তিনি ক্রমশ হয়ে ওঠেন কৃষকসহ স্থানীয় আদিবাসীদের ‘রানিমা’।
যতটুকু জানা যায়, নাচোলের রানি ইলা মিত্রের বাবা নগেন্দ্রনাথ সেন ও মা মনোরমা সেন দুজনের বাড়িই ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বাগুটিয়া গ্রামে। বাবার চাকরির সুবাদে ইলা সেনের জন্ম হয় কলকাতায়। তবে বিয়ের সূত্রে ১৯৪৫ সালে তিনি চলে আসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের রামচন্দ্রপুরে। সে সময় জমিদারি উচ্ছেদ, জোতদারি, শোষণ ও খাদ্য আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন। ইলা মিত্রের বাবা নগেন্দ্রনাথ সেন ছিলেন অবিভক্ত বাংলার ডেপুটি অ্যাকাউনটেন্ট জেনারেল।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বাগুটিয়া গ্রামে রয়েছে ইলা মিত্রের একটি দ্বিতল পৈত্রিক ভিটেবাড়ি ও সম্পদ-সম্পত্তি। কিন্তু সেসবের প্রায় সবই বেদখল হয়ে গেছে। ভিটেবাড়ি ও শত বিঘা জমি দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগও নেই।
২০০২ সালের ১৩ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন সংগ্রামী এই কৃষক নেত্রী।

আরও পড়ুন