ইউপি নোটিস বোর্ডে আসামিদের তালিকা

আপডেট: 04:10:13 26/02/2020



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : যশোরে নতুন আসা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেনের উদ্যোগে এবার মণিরামপুরে উন্মুক্ত হলো গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের তালিকা।
মঙ্গলবার থেকে উপজেলার প্রতিটি ইউনয়ন পরিষদের নোটিস বোর্ডে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের তালিকা টানিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে রোহিতা ইউপি চত্বরে ওই ইউনিয়নের ৬০ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির তালিকা টানিয়ে দিতে দেখা গেছে খেদাপাড়া ক্যাম্প পুলিশের আইসি এসআই সালাউদ্দিন মিন্টুকে। এসময় সংশ্লিষ্ট ইউপি সচিব কৃষ্ণগোপাল মুখার্জীসহ ইউপি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে নবাগত পুলিশ সুপারের নির্দেশে থানায় সেবা নিতে আসা জনগণকে সেবার পাশাপাশি চকলেট দিয়ে আপ্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এসআই সালাউদ্দিন বলেন, ‘ওসি স্যারের নির্দেশে রোহিতা ও খেদাপাড়া ইউপির নোটিস বোর্ডে স্ব-স্ব ইউনিয়নের ওযারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিদের তালিকা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তালিকা দেখে আসামিদের আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলার জন্য দুই ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও গ্রামপুলিশদের অনুরোধ করা হয়েছে। নতুনভাবে আসা আসামিদের নামও পর্যায়ক্রমে এই তালিকায় যুক্ত হবে।’
পুলিশের এমন উদ্যোগের বিষয়টিকে ইতিবাচক বলছেন রোহিতা ইউপি সচিব, ইউপি সদস্যসহ অনেকেই।  তালিকা টানানোর সময় পরিষদে উপস্থিত লোকজন বলেন, আগে কেউ জানত না কার কার নামে মামলার ওয়ারেন্ট আছে। হঠাৎ করেই রাতের আঁধারে এসে পুলিশ লোকজনকে ধরে নিয়ে যেত। পরে আসামিসহ তার স্বজনরা জানত যে আসামি ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি। আবার অনেক সময় পুলিশ ওয়ারেন্টমূলে তুলে নিলেও পরে আসামি নতুন মামলায় জড়িয়ে যেত। এখন তালিকা উন্মুক্ত হওয়ায় এই সুযোগ থাকবে না। আসামিরা নিজ উদ্যোগে আদালতে হাজিরা দিতে পারবে। 
ইউপি সচিব কৃষ্ণগোপাল মুখার্জী বলেন, এটি ভালো উদ্যোগ। পুলিশের এই উদ্যোগে জনগণের হয়রানি কমবে।
মণিরামপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, জিআর ও সিআর মামলায় এবং সাজাপ্রাপ্ত প্রায় দুই হাজার ৬০০ আসামির বিরুদ্ধে এই থানায় ওয়ারেন্ট রয়েছে।
‘এসপি স্যারের নির্দেশে দুই দিন ধরে থানা এলাকার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের বোর্ডে সংশ্লিষ্ট এলাকার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের তালিকা টানানো হচ্ছে। অনেক সাজাপ্রাপ্ত আসামি পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। আবার অনেকেই জানেন না তার নামে ওয়ারেন্ট আছে। উন্মুক্ত এই তালিকার ফলে স্থানীয়রা আসামিদের খবর পুলিশকে দিয়ে আইনকে সহযোগিতা করতে পারবেন। আবার যারা ওয়ারেন্টের বিষয়টি জানতেন না, তারা তালিকার মাধ্যমে খবর পেয়ে আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিন পেতে পারবেন,’ বলছিলেন থানার ওসি।

আরও পড়ুন