আসামে কারফিউ ভেঙে রাজপথের দখল

আপডেট: 08:41:13 12/12/2019



img
img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : ভারতের পার্লামেন্টে পাস হওয়া নাগরিকত্ব বিলের (সিএবি) প্রতিবাদে আসামের রাজধানী গুয়াহাটিতে কারফিউ অমান্য করে রাস্তায় নেমেছে হাজারো জনতা।
বৃহস্পতিবার সকালে গুয়াহাটিতে লোকজন কারফিউ ভেঙে রাস্তায় নেমে আসে। আসামের ছাত্র সংগঠন এএএসইউ ও কেএমএসএস লোকজনকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানায়। গুয়াহাটির শহরতলীর কোনো কোনো এলাকায় পুলিশ গুলিবর্ষণ করেছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় সিএবি পাস হওয়ার পরপরই আসামের বিভিন্ন অংশে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পুরো রাজ্যকে অস্থির করে তোলে।
প্রতিবাদ চলতে থাকায় আসাম ও প্রতিবেশী ত্রিপুরায় সব ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। গুয়াহাটি ও ডিব্রুগড়গামী বহু ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
হাজার হাজার লোক রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে অংশ নিতে থাকায় এক পর্যায়ে আসামের চারটি এলাকায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
গুয়াহাটিতে প্রতিটিতে ৭০ জন করে সেনাবাহিনীর দুটি দল মোতায়েন করা হয়। এর পাশাপাশি  তিনসুকিয়া, ডিব্রুগড় এবং জোরহাট জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
বিক্ষোভের মুখে আসামের বৃহত্তম শহর গুয়াহাটিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়। ডিব্রুগড়ে প্রতিবাদকারীরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সানোয়াল ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামেশ্বর তেলির বাড়িতে চড়াও হওয়ার পর সেখানেও কারফিউ জারি হয়। প্রতিবাদকারীরা সানোয়ালের লক্ষ্মীনগরের বাড়িতে পাথর নিক্ষেপ করে।
তারা আরেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দুলিয়াজানের বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। 
আসামজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে বৃহস্পতিবার সকালে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে আসামের জনগণকে আশ্বস্ত করে টুইট করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
“আপনাদের অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না,” টুইটে বলেন তিনি।
বুধবার রাতে ডিব্রুগড়ের চাবুয়ায় প্রতিবাদকারীরা একটি রেলস্টেশনে আগুন লাগিয়ে দেয়। তিনসুকিয়া জেলার পানিতোলা রেলস্টেশনও প্রতিবাদকারীরা পুড়িয়ে দিয়েছে বলে নর্থইস্টান ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন।
ইন্ডিগো বৃহস্পতিবার তাদের ডিব্রুগড়গামী ও সেখান থেকে ছেড়ে আসার কথা থাকা সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। স্পাইসজেটও গুয়াহাটি ও ডিব্রুগড়গামী ও সেখানে থেকে ছেড়ে আসার কথা থাকা তাদের সব ফ্লাইট শুক্রবার পর্যন্ত বাতিল করেছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী অন্যান্য এয়ারলাইন্সগুলো একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর দুইটা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য পুরো আসামজুড়ে ইন্টারনেট সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রতিবেশী ত্রিপুরায় বন্ধের ডাক দিয়েছে বিরোধীদল কংগ্রেস। ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে এই রাজ্যটিতে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে আসাম রাইফেলের ২১০ জন আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে রাজ্যটিতে সেনাবাহিনীর ১৪০ জন সদস্যকে মোতায়েন করা হয় বলে ভারতের প্রতিরক্ষা বিভাগের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন।   প্রতিবেশী আসামের ছাত্র সংগঠন এএএসইউ ও কেএমএসএস লোকজনকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানানোর পর কারফিউ অমান্য করে হাজারো জনতা রাস্তায় নামে।
সূত্র : এনডিটিভি, পিটিআই, বিডিনিউজ

আরও পড়ুন