আবরারের সব খুনির মৃত্যুদণ্ড চান মা ও প্রতিবেশীরা

আপডেট: 02:33:36 06/10/2020



img
img
img

শ্যামলী খন্দকার, কুষ্টিয়া : বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের সব হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চান তার মা রোকেয়া খাতুন। আবরার ফাহাদ হত্যার একবছরে তার পরিবার ও প্রতিবেশীদের এখন একটাই দাবি- দ্রুত রায় ঘোষণার পাশাপশি তা কার্যকর করা হোক।
‘যাকে কোনোদিন আমরা একটা চড়ও মারিনি। সবাই দেখেছে, আমার সেই আবরারকে কত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। দাবি একটাই, সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। আর এই মৃত্যুদণ্ড যেন তাড়াতাড়ি কার্যকর করা হয়, যাতে আবরারের ৯০ বছর বয়সী দাদা গফুর বিশ্বাস তা দেখে যেতে পারেন। সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা চাই। শিক্ষাজীবন শেষ করে দেশের সব শিক্ষার্থী যেন তার মায়ের কাছে ফিরে যেতে পারে। কোনো মা যেন এই চিন্তা না করে যে আমার সন্তান ফিরে আসবে তো?, এই আকুতি আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুনের।
কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের বাসায় আবরারের জামা কাপড়, বইপত্র, ব্যবহৃত জিনিসপত্রে প্রিয় ছেলেকে খোঁজেন তিনি।
আবরার ফাহাদের কথা মনে হলে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন না প্রতিবেশীরাও। তাদেরও একটাই দাবি, আবরারের হত্যাকারীদের ফাঁসি।
প্রতিবেশী কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যার একবছর হয়ে গেল। মামলার সাক্ষ্যদান শুরু হয়েছে। খুব দ্রুতই এই বর্বরোচিত ঘটনার মামলার রায় ঘোষণা করবে আদালত এবং সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে- এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি।
করোনাভাইরাসের কারণে বিচার কাজ এমনিতেই বিঘ্ন ঘটেছে জানিয়ে আবরারের ছোট ভাই আবরার ফায়াজ বলছেন, তিনজন আসামি এখনো গ্রেফতার হয়নি। তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে।
গত বছরের ৬ অক্টোবর রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর শেরে বাংলা হলের একটি কক্ষে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছয় ঘণ্টা ধরে নির্মম নির্যাতন করে মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যা করে। পরদিন এই ঘটনায় সারাদেশ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
ঘটনার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, মিডিয়া, প্রশাসন ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আবরারের মা বলেন, রায় ও তা কার্যকর হওয়া পর্যন্ত সবাই যেন তাদের পাশে থাকেন।

আরও পড়ুন