আফগানিস্তানে যে কারণে আমেরিকার পরাজয়

আপডেট: 01:05:44 16/08/2021



img

আলী রীয়াজ: আফগানিস্তানে তালেবানের প্রতি সহানুভূতিশীলরা ছাড়া সবাই বিভিন্ন ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। ভবিষ্যতে কী হবে, তা নিয়ে শঙ্কা আছে। দুই দশক অবস্থানের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করছে, দূতাবাসের কূটনীতিক ও কর্মচারীদের সরিয়ে নিতে নতুন করে সেনা পাঠানো হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট হচ্ছে মার্কিন সৈন্যদের প্রত্যাহার। কিন্তু কেন যুক্তরাষ্ট্র এ সিদ্ধান্ত নিল, এ পরাজয়ের প্রেক্ষাপট কী, সেটা না বুঝলে আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে না।

প্রত্যাহার: বাইডেনের আর কী বিকল্প ছিল
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত ২১ এপ্রিল ঘোষণা করেন, আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই মার্কিন সৈন্যরা আফগানিস্তান ত্যাগ করবে। সেই থেকেই প্রশ্ন ওঠে, বাইডেন সঠিক সিদ্ধান্ত নিলেন কি না। যারা মনে করেন, এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি বয়ে আনবে, কৌশলের বিবেচনায় এভাবে ঘোষণা দেওয়া ঠিক হয়নি, তারা এবং বিস্ময়কর হলেও লক্ষণীয়, যারা দুই দশক ধরে আফগানিস্তানে মার্কিন ও বিদেশি সৈন্যদের উপস্থিতির প্রবল সমালোচনা করে আসছিলেন, তাদের একাংশও এখন ক্ষমতায় তালেবানের সম্ভাব্য অধিষ্ঠানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করছে। যুক্তরাষ্ট্র কেন আফগানিস্তানের মানুষকে রেখে ‘পালিয়ে’ যাচ্ছে, সেটাই তাদের প্রশ্ন—একে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলেই বর্ণনা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষভাবে তারা স্বীকার না করলেও এটাই প্রমাণিত হচ্ছে, মার্কিন উপস্থিতির কারণেই তালেবানের বিজয় বিলম্বিত হয়েছে। এভাবে তালেবানের বিজয় বিলম্বিত হওয়ায় লাভ হয়েছে কি না, সেটা একটা বড় প্রশ্ন। দেশের ভেতরে গড়ে ওঠা একটি শক্তিকে কেবল বল প্রয়োগ করে মোকাবিলা করা ও ক্ষমতার বাইরে রাখা একটি বিদেশি বাহিনীর দায়িত্ব হতে পারে না। ফলে, তালেবানের উত্থানের পরিণতির দায় কেবল মার্কিনদের প্রত্যাহারের ওপরে চাপানো সঠিক নয়।
এটাও মনে রাখতে হবে, সৈন্য প্রত্যাহারের এ চুক্তি প্রেসিডেন্ট বাইডেন করেননি, তা সম্পাদিত হয়েছিল তার পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে। কয়েক বছরের আলোচনার অগ্রগতি এবং অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বে তার কথিত শান্তিবাদী ইমেজ তুলে ধরতে এবং দেশের ভেতরে তার সমর্থকদের কাছে এটা প্রমাণ করতে যে, তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালন করেন, যার ফলে তাড়াহুড়ো করেই ২০২০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি দোহায় তালেবানের সঙ্গে চুক্তি করেন। সেখানে বলা হয়েছিল, ১৪ মাসের মধ্যে সব সৈন্য প্রত্যাহার করা হবে। (আলী রীয়াজ, ‘এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের দলিল’, প্রথম আলো, ২ মার্চ ২০২১; আলতাফ পারভেজ, ‘যে যুদ্ধের শুরু সহজ ছিল, গুটিয়ে আনা কঠিন’, প্রথম আলো, ৩ মার্চ ২০২১)। বাইডেন এ চুক্তি বাস্তবায়ন না করলে তিনি এই বলে সমালোচিত হতেন, তিনি যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে চান। সৈন্য প্রত্যাহারের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য যারা বাইডেনকে দায়ী করছেন, তাদের একাংশ যে চুক্তি না মানার জন্যই তাকে অভিযুক্ত করত, সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
তারপরও গত এক দশকের ইতিহাস বলে, এ যুদ্ধে মার্কিনদের বিজয়ের কোনো সম্ভাবনাই নেই। যুদ্ধক্ষেত্রে তালেবানের অগ্রগতি ইঙ্গিত দিচ্ছিল, তাদের অগ্রগতির প্রতি আফগান জনগণের একাংশের সমর্থন অত্যন্ত দৃঢ়। সেই সমর্থন কাবুলে ক্ষমতাসীন হামিদ কারজাই, আশরাফ গনি বা আবদুল্লাহরা দুর্বল করতে সক্ষম হচ্ছেন না। একটি অংশগ্রহণমূলক শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে তালেবান-সমর্থকদের বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা একার্থে অনেক আগে সেটা উপলব্ধি করেই তালেবানের সঙ্গে আলোচনার সূচনা করেন। কিন্তু সেই আলোচনার সাফল্যের বিষয়ে যখন কোনো আশা নেই, সে সময়ে বাইডেন আর ভিন্ন কী করতে পারতেন? এটাও বাইডেন প্রশাসনের বিবেচনার বিষয় ছিল, সৈন্য প্রত্যাহার করার কারণে যা দাঁড়াবে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তা কাঙ্ক্ষিত নয়। এতে গোটা শাসনব্যবস্থার যে পরিবর্তন ঘটবে, সেটাও তাদের বিবেচনায় আছে বলেই ধারণা করা যায়। কিন্তু মাঠপর্যায়ে তাদের অবস্থা এবং রাজনৈতিক চালচিত্র তাদের অনুকূলে ছিল না। ভবিষ্যতে সেখানে অবস্থান করলেও ভিন্ন কোনো ফল হতো না।

যুক্তরাষ্ট্র কী পেল, কীভাবে ব্যর্থ হলো
আফগানিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়েছে, ন্যাটোর শরিকেরা পরাজিত হয়েছে—এ নিয়ে কোনো রকমের ভিন্নমতের অবকাশ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা কূটনৈতিক ভাষায় একে যেভাবেই ব্যাখ্যা দেন না কেন, তারা জানেন, পরাজয়ের চেহারা এ রকমই হয়। তারপরও যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তি এইটুকু, আল-কায়েদার শক্তি ও অবস্থান দুর্বল হয়েছে; এখন একটি সুসংগঠিত আল-কায়েদা নেই। বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত আল-কায়েদার অনুসারী আল-শাবাব সোমালিয়ায় এখন ক্রমবর্ধমান, মালিতে আইসিসের অনুসারীরা শক্তি সঞ্চয় করছে, দক্ষিণ এশিয়ায় আল-কায়েদা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। মধ্যপ্রাচ্যে ও এশিয়ায় এ ধরনের উগ্র সহিংস সংগঠন আছে। কিন্তু এসব গোষ্ঠীর লক্ষ্য এখন সীমিত—আফগানিস্তানে গত ২০ বছর যদি তালেবানের শাসন থাকত, তবে পরিস্থিতি যে ভিন্ন হতো, সেটা নিশ্চিত।
গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপরে বাইরে থেকে যে সন্ত্রাসী হামলা সংঘটিত হয়নি, সেটাকেই যুক্তরাষ্ট্র সাফল্য বলে দাবি করতে পারে। এর চেয়ে বেশি কিছু দাবি করা যাবে না। তার জন্য যে ব্যয় হয়েছে—অর্থ ও জীবনের হিসাবে—সেটা কি আনুপাতিক? অবশ্যই তা আনুপাতিক নয়।
যুক্তরাষ্ট্র যে আফগানিস্তানে ঊনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটেনের কিংবা বিংশ শতাব্দীতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পরাজয় থেকে শিক্ষা নেয়নি, সেটিই কেবল তাদের ব্যর্থতা নয়; এমনকি তারা যে ভিয়েতনামে তাদের নিজেদের পরাজয় থেকেও শিক্ষা নেয়নি, সেটাই লক্ষণীয়। গেরিলা যুদ্ধের কৌশল মোকাবিলায়, কাউন্টার-ইন্সারজেন্সির কৌশলে বড় ধরনের ভুল হয়েছে, সেটা নিশ্চয় স্বীকার করতে হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশ্ন উঠছে, ৮৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে যে আফগান সেনাবাহিনী তৈরি ও প্রশিক্ষিত করা হয়েছিল, তারা কীভাবে এত সহজেই ভেঙে পড়েছে। তার অন্যতম কারণ হচ্ছে আফগান সেনাবাহিনীর মনোবলের অভাব। অথচ বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এ বিষয়ে যেসব তথ্য দিয়েছে, সেগুলো ছিল অতিরঞ্জন, অসম্পূর্ণ এবং ক্ষেত্রবিশেষে মিথ্যা। দুর্নীতি এবং সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তালেবানের যোগাযোগের বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের একটা বড় ব্যর্থতা হচ্ছে আফগানিস্তানের এলিটদের দুর্বলতাগুলো মোকাবিলা করতে না পারা। আফগানিস্তানের এলিটদের এক বড় অংশ, বিশেষ করে যারা গত দুই দশক ক্ষমতায় ও ক্ষমতার কাছাকাছি থেকেছেন, তারা অত্যন্ত সংকীর্ণ বা প্যারোকিয়াল, বহুধাবিভক্ত ও দ্বন্দ্বে লিপ্ত এবং দুর্নীতিপরায়ণ। এসব বৈশিষ্ট্য আফগান জনগণের এক বড় অংশের কাছে ক্ষমতাসীনদের অগ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। এলিটদের এ চরিত্র সত্ত্বেও তাদের প্রতি সমর্থন দিয়েছে, এ জন্য যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই অভিযুক্ত হতে পারে। মার্কিন নাগরিকেরা এটা বলতেই পারেন, তাদের করের অর্থের এ অপচয় তারা সঠিক মনে করেন না। কিন্তু তার পরিণামের দায় এই এলিটদেরও। তারা সম্ভবত ধরে নিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো অব্যাহতভাবে তাদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যেতে বাধ্য, ইতিমধ্যে আঞ্চলিক শক্তি ভারত ও চীনের বিনিয়োগ থেকে অর্থনীতির অনুকূল অবস্থা তাদের একধরনের আত্মসন্তুষ্টি তৈরি করেছিল। অন্যদিকে, কাবুলের সরকার কূটনীতির খেলায় ক্রমান্বয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতনির্ভর হয়ে পড়েছে।
গত দুই দশকে মার্কিন উপস্থিতি এবং তার সমর্থিত সরকারের সময় যে যুদ্ধ চলেছে, তাতে মানুষের প্রাণহানির অসম্পূর্ণ হিসাব আমরা জানি। ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স, ব্রাউন ইউনিভার্সিটির সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসির এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, আফগানিস্তানে ২০০১-২১ সাল পর্যন্ত যুদ্ধে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর তিন হাজার ৫৮৬ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ ও সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে ৭৫ হাজার ৯৭১ জনের, বেসামরিক মানুষ নিহত হন ৭৮ হাজার ৩১৪ জন, আর তালেবানসহ সরকারবিরোধী যোদ্ধা নিহত হওয়ার সংখ্যা ৮৪ হাজার ১৯১ (প্রথম আলো, ১৪ আগস্ট ২০২১)। এত প্রাণহানি সত্ত্বেও আফগান সমাজে কি কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেনি?
সমাজে নারীদের অবস্থা ও অবস্থানের কথা বহুল আলোচিত; গত এক দশকে শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ ১৫ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশ হয়েছে। গত দুই দশকে গড় আয়ু ৫৬ বছর থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ বছরে; শিশু মৃত্যুর হার ২০০১ সালে ছিল হাজারে ১২০ জনের বেশি, ২০২০ সালে তা দাঁড়িয়েছে অর্ধেকে। ১৯৯৬ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের সময় প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে অংশগ্রহণের হার ছিল ৪২ শতাংশ, ২০০১ সালে তা দাঁড়ায় ২০ শতাংশ; ২০১০ সালে দাঁড়ায় ১০০ শতাংশ। নাগরিকদের অধিকার বা অন্যান্য বিবেচনা যুক্ত করলে গত দুই দশকে আফগান সমাজে এক বড় ধরনের পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যায়। এগুলো আফগান জনগণের জীবনে প্রভাব ফেলেনি, এমন নিশ্চয় বলা যাবে না। সামনের দিনে কী ঘটবে, তার হিসাবে—এ বিষয়গুলো বিস্মৃত হওয়ার উপায় নেই।

দুই দশকের শিক্ষা কী
আফগানিস্তানে মার্কিনদের পরাজয় এবং সৈন্য প্রত্যাহার থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, লক্ষ্যহীন যুদ্ধে কোনো শক্তি বিজয়ী হয় না। ২০০৩ সালের পর থেকে আফগানিস্তানে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর উপস্থিতি এবং যুদ্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল না। আল-কায়েদাকে আফগানিস্তান থেকে কার্যত তিরোহিত করার পরে যে ভূমিকায় যুক্তরাষ্ট্র অবতীর্ণ হয়েছিল, তা বিদেশি শক্তির ব্যাপক ও প্রত্যক্ষ উপস্থিতির মাধ্যমে অর্জন সম্ভব নয়।
২০০৫ সালের পর থেকে কাবুলে একটি সরকার টিকিয়ে রাখার পক্ষে যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা হলো দেশে স্থিতিশীলতা রক্ষা, নিরাপত্তা বজায় রাখা। কিন্তু এ লক্ষ্যে দেশের ভেতরে থেকে যদি রাজনৈতিক শক্তি গড়ে না ওঠে এবং এ লক্ষ্যে একধরনের জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত না হয়, তবে এর দুটির কোনোটাই অর্জন করা যায় না। বিশেষ করে যেখানে প্রতিবেশী কোনো দেশ এ ধরনের চেষ্টার বিরুদ্ধে সক্রিয় থাকে। আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রধান বাধা ছিল পাকিস্তান। দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, আফগানিস্তানে মার্কিন সৈন্যদের উপস্থিতির জন্য পাকিস্তানের ওপরে নির্ভর করতে হয়েছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তালেবানকে আশ্রয় দিয়েছে, সমর্থন করেছে; পাকিস্তানি সমাজের এক বড় অংশ আদর্শিক বিবেচনায় এবং মার্কিন বিরোধিতার নামে তালেবানের পক্ষেই থেকেছে।
দ্বিতীয় শিক্ষা হচ্ছে, বহিঃশক্তি রাষ্ট্র গঠন করতে পারে না, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি ও জাপানে যা সম্ভব হয়েছে, একবিংশ শতাব্দীতে আফগানিস্তান, ইরাক ও লিবিয়াতে তা সম্ভব হয়নি। তার কারণ, আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য নাকি এসব সমাজে বিরাজমান বিভাজন সেই বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে; এটাও মনে করা যায়, বৈশ্বিক রাজনীতিতে যে পরিবর্তন ঘটেছে, ক্ষমতা ভারসাম্যের ক্ষেত্রে যে পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে, সে কারণে তা সম্ভব নয়। কিন্তু ফল একই—রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়া শেষ বিচারে অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া এবং দেশের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তির কাজ। বাইরের শক্তি কেবল সহায়ক হতে পারে। তারপরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা ছাড়া গড়ে ওঠা রাষ্ট্র ভঙ্গুরই হয়। রাজনৈতিক সমস্যার কোনো সামরিক সমাধান নেই, এটাও একটি বড় শিক্ষা। তালেবানের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনায় যেতে কাবুলের সরকারের অনাগ্রহ তালেবানের জন্য শাপে বর হয়েছে। তারা শান্তি আলোচনাকে ব্যবহার করেছে বৈধতা তৈরির জন্য, ক্ষমতা তারা শক্তি দিয়েই দখল করতে চেয়েছে, তাতে তারা সফল হয়েছে।

শেষ কথা নয়
আফগানিস্তানের আগামী দিনগুলো যে ঘটনাবহুল হবে, সেটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। অনুমান করা দুঃসাধ্য নয় যে তালেবান বিজয়ী হবে। দেশটির ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। কিন্তু তা ১৯৯৬ সালে প্রত্যাবর্তন কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। মার্কিনদের পরাজয়ই আফগানিস্তানের ইতিহাসের শেষ কথা নয়। বরং বলা যেতে পারে, এটি সূচনামাত্র।
[প্রথম আলোর বিশ্লেষণ]

আরও পড়ুন