আগামীর দেশনায়ক তারেক রহমান : অমিত

আপডেট: 07:48:50 20/11/2020



img

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, জাতীয়তাবাদী দলের আগামী দিনের নেতৃত্ব যেমন নির্ধারিত ঠিক তেমনি বাংলাদেশের আগামী নেতৃত্বও নির্ধারিত হয়ে গেছে। বর্তমান সরকার জিয়া পরিবারকে নিয়ে যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেনো আগামী দিনে  তারেক রহমানই দেশনায়ক হয়ে নেতৃত্ব দেবেন।
শুক্রবার (২০ নভেম্বর) সকালে ও বিকেলে যশোর জেলা বিএনপি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত পৃথক দুটি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ কথা বলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানে ৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।  সভা দুটি শহরের লালদীঘিপাড়স্থ বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা বিএনপির আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহবায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির জেলা শাখার সহ-সভাপতি নির্মল কুমার বীট। জেলা বিএনপির আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দের মধ্যে অংশ নেন সংগঠনের জেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।
প্রধান অতিথির আলোচনায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরো বলেন, ‘আমরা যাকে সামনে রেখে রাজনীতি করি, যার উৎসাহে উদ্দীপনায় হাজারো প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শের সৈনিকরা দীর্ঘ ১৩বছর ধরে রাজপথে আছেন সেই প্রিয় নেতা তারেক রহমানের আজ জন্মদিন। অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে এই জন্মদিন পালন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশে আজ গণতন্ত্র নির্বাসিত। আইনের শাসন ভূলুন্ঠিত, মানবাধিকার পর্যদুস্ত, বাকস্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ায় সে উৎসব করার সুযোগ নেই। এরপরও জীবন কখনও থেমে থাকে না। তাই আজকের এতো কষ্ট ও মন খারাপের মাঝেও আমাদের প্রিয় নেতার জন্মদিনে একত্রিত হয়েছি।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ আজ বিশ্বাস করে হারানো গণতন্ত্রকে যদি ফিরিয়ে আনতে হয় এবং তার জন্য যে লড়াই প্রয়োজন তার নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা একমাত্র তারেক রহমানই রাখেন। কারণে তিনি লন্ডনে নির্বাসনে থেকেও গণতন্ত্রের লড়াইয়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আজকে শাসক দলের মধ্যে ন্যুনতম গণতন্ত্রের চেতনা নেই। তাদের মাঝে সামান্যতম সহনশীলতা, পরমত সহিষ্ণুতা নেই। তারেক রহমানকে নিয়ে সরকার নানা সমালোচনা-আলোচনা করে। অথচ তিনিই বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু গুনগত পরিবর্তন এনেছিলেন। তিনিই প্রথম বলেছিলেন আসুন আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে বাংলাদেশের চার নেতাকে সর্বোত্তমভাবে স্বীকৃতি দেই। তারা হলেন, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এই রাজনৈতিক উদারতা আজও পর্যন্ত কোনো রাজনীতিবিদ দেখাতে পারেননি। যা দেখিয়েছেন একমাত্র তারেক রহমান। এছাড়া তিনি টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করেছিলেন। সজিব ওয়াজেদ জয়কে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে চিঠি দিয়েছিলেন। সজিব ওয়াজেদ জয়  যেদিন রংপুরে যান সেখানে তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ চেষ্টায় শতাধিক তোরণ করা হয়েছিলো। অথচ আওয়ামী লীগ আজ এসব কিছু ভুলে গেছে।
তিনি বলেন, দেশের এই পরিস্থিতি থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হলে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই। তাই আজকের এই দিনে আমাদের সবাইকে শপথ নিতে হবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দেশনায়ক তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনতে রাজপথে ঝাপিয়ে পড়তে হবে।  
জেলা বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভা দুটিতে নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, প্রফেসর গোলাম মোস্তফা, আলহাজ মিজানুর রহমান খান, বিএনপির কেন্দ্রী সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক জাহানারা সিদ্দিকী, যশোর নগর বিএনপির সভাপতি মারুফুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুর-উন-নবী, সাধারণ সম্পাদক কাজী আজম, রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লক চাঁদ, শ্রমিক দল সভাপতি এসএম মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন, জেলা যুবদলের সভাপতি এম তমাল আহমেদ, সাবেক যুবনেতা আকবর হোসেন খোকন প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মো. মনিরুজ্জামান।

আরও পড়ুন