'যশোর রোডের' গাছ কাটার সিদ্ধান্ত আদালতে স্থগিত

আপডেট: 01:45:43 18/01/2018



img
img
img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর রোডে শতবর্ষী গাছ কাটার সিদ্ধান্ত ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। বাংলা ট্রিবিউন এই খবর দিয়েছে।
ঐতিহাসিক 'যশোর রোড' সম্প্রসারণের জন্য ওই রাস্তার দুই পাশে থাকা গাছগুলো কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয় গত ৬ জানুয়ারি যশোর কালেক্টরেটে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের এক সভায়। সেই সভায় তিনজন সংসদ সদস্যসহ সরকারি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। তারা কেউ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেননি।
গাছ কাটার সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমে আসার পর পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় ওঠে এনিয়ে।
গাছ কেটে রাস্তা সম্প্রসারণ করার দাবি করতে থাকেন অনেকেই। তাদের দাবি, সুপ্রশস্ত রাস্তার প্রয়োজনীয়তা গাছের চেয়ে বেশি। তাছাড়া গাছগুলোর আয়ু শেষ হয়ে গেছে বা যাচ্ছে। এখন এই গাছ পরিবেশের তেমন কোনো উপকার করতে পারবে না। বরং এগুলো দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠেছে।
আবার গাছ রেখে রাস্তা সম্প্রসারণের দাবি করছেন অনেকেই। তাদের যুক্তি, গাছ রক্ষা করে রাস্তা সম্প্রসারণের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আর্থিক লাভের আশায় 'স্বার্থাণ্বেষী মহল' গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যশোর রোডের সঙ্গে মু্ক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত থাকার কথাও কেউ কেউ যুক্তি হিসেবে তুলে ধরছেন।
যশোর ছাড়াও রাজধানীতেও প্রতিবাদ হয় গাছ কাটার। একপর্যায়ে উচ্চ আদালতে রিটও হয়। ফলে বিষয়টি সারাদেশে আলোচনার খোরাক যোগায়।
এমন পরিস্থিতিতে শতবর্ষী গাছ কাটার সিদ্ধান্ত ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে দিলেন আদালত। এতে বিতর্ক কমবে না কি বাড়বে, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
প্রসঙ্গত, সরকারি হিসেবে 'যশোর রোডের' পাশে দুই হাজার তিনশয়ের কিছু বেশি গাছ আছে। এর মধ্যে কিছু গাছ শতবর্ষী। জমিদার কালি পোদ্দার এই গাছ লাগিয়েছিলেন। অন্য গাছগুলো বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের লাগানো।