শিশুর কোলে আরেক শিশু, স্বজনরা দিশেহারা

আপডেট: 01:40:40 08/09/2019



img

স্টাফ রিপোর্টার : ধর্ষণের শিকার অন্তঃসত্ত্বা সেই শিশু (১২) শনিবার সকালে হাসপাতালে প্রসব করেছে এক ছেলেসন্তান। 
ডাক্তাররা বলছেন, প্রসূতি ও তার সন্তান ভালো আছে। কিন্তু ভীড় বাড়ছে বিধায় ইনফেকশনের ভয় রয়েছে।
অপরদিকে, মেয়েটির স্বজনরা ব্যক্ত করছেন হতাশা।
যশোর জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর গভীররাতে পেটে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় যশোরের মণিরামপুর উপজেলার অন্তঃসত্ত্বা ওই শিশু। কমবয়সে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় গর্ভের সন্তান ও তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত ছিল না।  গত ৫ সেপ্টেম্বর তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।  কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় ৬ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে ফের ভর্তি করা হয়।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু সুবর্ণভূমিকে বলেন, আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় মেয়েটি একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেছে।  ডা. নীলুফার ইয়াসমীন এমিলির নেতৃত্বে সিজার করা হয়।  বাচ্চার ওজন হয়েছে আড়াই কেজি।  বর্তমানে তারা দুজনই ভালো আছে।  তবে, দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া প্রসূতি ও তার বাচ্চার ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।  খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল পরিদর্শন করে। 
এদিকে, শিশুটি আরেক শিশু প্রসব করায় মোটেই খুশি নন তার পরিবারের সদস্যরা।  কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেয়েটির বাবা বলেন, ‘আমি কিছুই বুঝতে পারছি না, ভাবতে পারছি না। কী করবো, কোথায় যাবো?’
মেয়েটির দাদি বলেন, ‘মা-সন্তান দুজনই শিশু। তাদের কী হবে, কী পরিচয়ে তারা বেড়ে উঠবে? আল্লাহ আমাদের এ কী আজাব দিলে!’
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহউদ্দিন শিকদার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ স্যাম্পল সংরক্ষণ করা আছে।  শিশুটির ডিএনএ স্যাম্পল নিয়ে ঢাকায় পাঠানো হবে।  রিপোর্ট আসার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেয়েটির বাবা ও মামলা সূত্রে জানা যায়, মণিরামপুর উপজেলার তাহেরপুর এলাকার বাসিন্দা গোলাম কিবরিয়া (৫৬) পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের একজন কর্মকর্তা। তিনি সেখানে ভাড়া বাসায় থাকেন। শিশুটির মায়ের সঙ্গে বাবার তালাক হয়ে যাওয়ার পর সে যশোর শহরে তার নানাবাড়িতে থাকতো। গত বছর তার মেয়েকে বাসায় কাজের পাশাপাশি লেখাপড়া করাবেন বলে গোলাম কিবরিয়া যশোর থেকে মণিরামপুরে নিয়ে যান। মেয়েটি তাকে নানা বলে ডাকতো। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাড়ি ফাঁকা থাকায় কিবরিয়া তার মেয়েকে ধর্ষণ করতে উদ্যত হলে সে বাধা দেয়। এরপর তার মুখে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি পরে কিবরিয়ার স্ত্রী রওশনআরাকে জানালে তিনি বিষয়টি কাউকে না বলার জন্যে শাসায়।  এরপর কয়েকদফা ধর্ষণের শিকার হয় মেয়েটি।  সর্বশেষ ফেব্রুয়ারি মাসের ৩ তারিখ রাতে আবারও তাকে ধর্ষণ করা হয়।  মাসতিনেক আগে মেয়েটির শরীর খারাপ করলে তাকে যশোরের একজন পল্লী চিকিৎসককে দেখানো হয়। ডাক্তার প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে জানান মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা। পরে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে আল্ট্রাসনো করে দেখা যায় সে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।  এরপর ১ জুলাই মেয়েটির বাবা মণিরামপুর থানায় একটি মামলা করেন (মামলা নম্বর ০২/০১.০৭.১৯)। মামলার সূত্র ধরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়।  বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
মণিরামপুর থানার এসআই এবং এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সৌমেন বিশ্বাস বলেন, ‘৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে আমি যশোর জেনারেল হাসপাতালে গিয়েছিলাম।  মেয়েটি ৩৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।  সে ও তার গর্ভের শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ডাক্তাররা তাকে খুলনায় রেফার করেন।

আরও পড়ুন