অমিয় দেবনাথের পাঁচটি কবিতা

আপডেট: 02:37:12 16/03/2017



img

ভাষা

ব্রহ্মযজ্ঞে শুরু হয় ভাষার পাঠ
জঠরের অষ্টদল পদ্ম থেকে বিস্তার
মায়ের মুখে প্রথম শেখা বুলি
ভালবাসার পাঠ শুরু
মাকে মাতৃভূমিকে মাতৃভাষাকে
প্রতিযোগী পথে গেয়ে চলা গান
পায়ে পায়ে সূর্য ওঠে প্রতিদিন
তবুও প্রতিদান মেঘে ঢেকে যায় বার বার
মাতৃভূমিতে চাষ হয় ভিনদেশি ভাষা সংস্কৃতি
লাঙলের তীক্ষ্ণতায় কেঁদে ওঠে মাটি মা
বাঙালিত্ব হারিয়ে চলেছি বহুযুগ ধরে
কেঁদে ওঠে মা
বেদুঈন ভাষা নীড় বাঁধে
আপন সন্তান সৎ ছেলের মর্যাদা পায়
ডুকরে কাঁদা শব্দগুলো বুকে আঁকড়ে
প্রাণপণ প্রতীক্ষা
সবুজ ডানায় আমৃত্যু ওড়ার আকর্ষণে
হারানো ধন একদিন অবশ্যই ফিরবে




আগুন হাওয়া
 
কিছু সন্ধ্যাছোঁয়া ঘাস
মিশে আছে বসন্ত শিশিরে
ভেজা পল্লবে বেড়ে চলে সূর্যরাগ
দৃশ্য বন্ধনে
ধোঁয়াশায় ঢেকে যাওয়া সবুজের দোল
মিশে যায় মলয় প্লাবনে
তখনো ফোটেনি পলাশ
অশোকের রণডাল ভেঙে পড়ে যুদ্ধের আগে
দূর সাগরে স্বপ্নজাহাজে ভেসে আসছে রঙধনু
না সে তো রঙধনু নয়
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের রঙিন বারুদ
ফাগুনের রাস্তায় চলছে আগুনের হোলি
রক্তপথ জ্বলছে জ্বলছে...
সামনে বৈশাখ
উত্তপ্ত বায়ুকোণ
তারপর ধ্বংসঝড়
পরেরবার আসবে ফাগুন
উপভোগ্য কান্নার সুর নিয়ে
অশান্ত চিল শকুন ধরে রাখে আকাশ
বিচিত্র বাতাসে বার বার ঘুরতে থাকে পৃথিবী
প্রতিটা সেকেণ্ডে বেড়ে চলে আগুন হাওয়া




একটা অপেক্ষা

ধর্ষিত হৃদয়ের প্রতি ফোঁটা রক্তের আর্তনাদে
জন্ম হয় বিকৃতদেহী মৃত্যুর
সেই মৃত্যুর ছায়াগুলো প্রেতাত্মা হয়ে
প্রতিটা কোষ অধিকার করে বসে থাকে
চোখের জলের যে ফোঁটাগুলো অদৃশ্য থাকে
তারাই ধিক্কার খাওয়া হৃদয়ের দৃশ্য পাহারাদার
আশা ঘড়ির কাঁটার সাথে পাল্লা দিয়ে
নিরাশা হয়ে ওঠে চোখের পলকে
তারপর শুধু অপেক্ষা
একটা ধ্বংসাত্মক সাম্রাজ্যের
যেখানে মানুষেরা নিশ্বাস নিতে চেয়েছিলো




পথচলা
 
চিবুকে এসেছে হলুদ পাখি
জানালার ধারে ঘুরছে কুয়াশা
কিছু চেনা বিদায়ের মুহূর্ত
আর্তনাদগুলো ফিরে আসে বার বার
চক্রাকারে
পৃথিবীর বধির সময়ে
সুখছবি উড়ে যায় চোখ থেকে চোখের অন্তরালে
চেনা ভালবাসা
চিনিয়েছে পথচলা ঝোড়ো মেঘে
ছিনিয়েছে
ঘোমটাবতী চলেছে এবার শৃঙ্খলের পথে
মৃত আশা পড়ে থাকে
চির পরাধীনতার ভিড়ে




ফেলে যাওয়া রুমাল

যখন গোধুলি অস্ত গেলো
তখন সরব শিয়ালগুলো ডাক খুঁজে ফেরে
গলিতে গলিতে
স্নান ঘরে টুপ করে পড়ে যাওয়া সময়
লাগামহীন ভিজতে থাকে
তাকে আর তুলে আনিনি আজও
সেদিন পাথরের ভিতর থেকে
কিছু স্বপ্নের গন্ধ আসছিলো
মাঝ পথে আটকে থেমে গেলো
চুলগুলো হয়েছিলো বাঁধন ছাড়া
সেখানেও ছিলো রুমালের ছাপ
আজও খুঁজি তাকে
চেনা বাতাসে
আজও প্রতিদিন ভোর হয়
আজও রুমাল তার চেহারা বদলায়নি
চেহারা বদলে নিয়েছে সময়
হাজার বছর পর যদি কখনো ফিরে আসি
তখনো তাকে দেখবো রুমালের রূপে