অভয়নগরে মাদরাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে নারী পাচারের অভিযোগ

আপডেট: 01:20:35 13/07/2016



img

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের অভয়নগর উপজেলার এক কওমি মহিলা মাদরাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে সৌদি আরবে নারী পাচারের অভিযোগ উঠেছে। পাচার হওয়া এক নারীর মেয়ে বাদী হয়ে এ ঘটনায় আদালতে মামলা করার পর বিষয়টি জনসমক্ষে এসেছে।
উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নে অবস্থিত পুড়াখালী ফকিরবাগান ফাতেমাতুজ জোহরা (র.) মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মাওলানা আসিফ ইলাহী (৫৮) দীর্ঘদিন ধরে হজ এজেন্সির আড়ালে নারী পাচার করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষক ও তার কয়েকজন সহযোগী এলাকায় প্রচার করেছেন, সৌদি আরবে তার নিজস্ব অফিস আছে। বাংলাদেশ থেকে নারী শ্রমিক নিয়ে সৌদি অফিসের মাধ্যমে থাকা-খাওয়ার সুবিধাসহ মোটা বেতনে ক্লিনার পদে সেখানে চাকরি দেওয়া হয়।
এই প্রলোভনের শিকার হন উপজেলার দেয়াপাড়া গ্রামের তিন নারী। গত বছরের পহেলা অক্টোবর তাদের ভ্রমণ ভিসার মাধ্যমে সৌদি আববে পাঠান মাওলানা আসিফ ইলাহী। অভিযোগ, ওই নারীদের সৌদি আরবে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন, এমনকী দেহ ব্যবসায় নিয়োজিত হতে বাধ্য করা হচ্ছে। তারা নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দেশে আত্মীয়দের কাছে ফোনে বিষয়টি জানিয়েছেন।
বিষয়টি জানার পর তাদের স্বজনরা আসিফ ইলাহীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তিন নারীকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২৫ হাজার করে মোট ৭৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার দুই মাস পার হলেও নির্যাতিতদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেননি।
প্রতারিত হয়ে পাচারের শিকার ওই তিন নারীর একজনের মেয়ে ঘটনার ব্যাপারে সোমবার যশোরে মানবপাচার প্রতিরোধ ও অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। মামলা নম্বর ৮০/১৬। মামলায় আসিফ ইলাহী ও তার তিন সহযোগী মথুরাপুর গ্রামের হামিদ মোল্যার ছেলে হালিম মোল্যা (৫২), একই গ্রামের সাফী মোল্যার ছেলে লিটন মোল্যা (৩৫) ও পোড়াখালী গ্রামের জনৈক নূরানী হুজুরকে (৪৮) আসামি করা হয়।
অপর দিকে, নড়াইলের বিছালী গ্রামের দুই নারীকে একই কায়দায় সৌদি আরবে পাঠায় এই চক্র। এঘটনায় নড়াইল আদালতের নির্দেশে আসিফ ইলাহীর নামে থানায় মামলা হয়েছে গত ১৭ জানুয়ারি। মামলা নম্বর ১৫।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাওলানা আসিফ ইলাহী বলেন, ‘আমি ইকোনমিক ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে হজে লোক পাঠাই। ওই সব মহিলা আকবর এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে সৌদি আরবে গেছে। এ ব্যাপারে আমার কোনো দায়-দায়িত্ব নেই।’
এ দিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাওলানা আসিফের প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাটিতে এলাকার প্রায় ৬০০ মেয়ে লেখাপড়া করে। সেখানে ২৬ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। মাদরাসা পরিচালকের এ ধরনের অনৈতিক কাজে ক্ষুব্ধ হয়ে তিন শিক্ষক ইতিমধ্যে চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন।

আরও পড়ুন