অফিসিয়াল আদেশ অমান্য প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার

আপডেট: 06:29:19 14/02/2019



img

মৌসূমী নিলু, নড়াইল : লোহাগড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী মুস্তাইন বিল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ হাসান ও খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক কল্যাণ কুমার ফৌজদার লোহাগড়া প্রাণিসম্পদ অফিস পরিদর্শন করেন। এছাড়া ভুক্তভোগী খামার মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ হাসান বলেন, আমরা খামারিসহ ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে লোহাগড়া প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগসমূহ তদন্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।  আর লোহাগড়া অফিসের কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের অফিসিয়াল দায়িত্ব বুঝে দেয়ার ব্যাপারে তাকে (মুস্তাইন বিল্লাহ) লিখিত আদেশ দেয়া হয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক কল্যাণ কুমার ফৌজদার বলেন, মুস্তাইন বিল্লাহের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এদিকে, অফিস আদেশ পাওয়ার পরও ডা. কাজী মুস্তাইন বিল্লাহ কম্পাউন্ডারসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব বুঝে দেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকী নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে অফিসের কম্পাউন্ডার ও ড্রেসার দিয়ে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগির চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অফিসের একাধিক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত জেলা ও বিভাগীয় কর্মকর্তার আদেশ মানেননি লোহাগড়া প্রাণ সম্পদ কর্মকর্তা। তিনি (মুস্তাইন) আমাদের অফিসিয়াল কাজ বুঝে দেননি। এমনকী অসুস্থ গরুসহ গৃহপালিত প্রাণীর চিকিৎসা এখনো পর্যন্ত তিনি করেননি। যেদিন (১১ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক ডা. মুস্তাইন বিল্লাহ বিরুদ্ধে অনিয়মের তদন্ত করতে লোহাগড়ায় আসেন, ওইদিন বিকেলেও তিনি (ডা. মুস্তাইন) এক গরুর মালিককে ব্যবস্থাপত্র করে দেননি। অফিসের ড্রেসার খন্দকার সোহরাব হোসেন ব্যবস্থাপত্র দেন। যে ব্যবস্থাপত্রটি এ প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।
লোহাগড়া অফিসের কম্পাউন্ডারসহ সংশ্লিষ্টদের অফিসিয়াল দায়িত্ব বুঝে না দেয়ার বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ হাসান বলেন, যদি তিনি (মুস্তাইন বিল্লাহ) অফিস আদেশ না মানেন, তাহলে তাকে শোকজ করা হবে।
গত ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি কয়েকটি দৈনিকে “লোহাগড়ার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ খবরে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে লোহাগড়া প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।
অভিযোগে জানা যায়, কাজী মুস্তাইন বিল্লাহ অসুস্থ গরু, ছাগল, হাস-মুরগিসহ গৃহপালিত বিভিন্ন প্রাণী নিজের তত্ত্বাবধানে না করে কম্পাউন্ডার ও ড্রেসার দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। এতে করে সাধারণ মানুষ ও খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।  ২০১১ সালের ৪ মে লোহাগড়ায় যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন অনিয়ম করে যাচ্ছেন তিনি। 
লোহাগড়া উপজেলার কচুবাড়িয়া এলাকার গরু খামারি হায়দার বলেন, আমাদের পরিবারে ৩৫টি গাভী পালন করছি। তবে গাভী অসুস্থ হলে লোহাগড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে তেমন কোনো চিকিৎসা দেয়া হয় না। মাঝে-মধ্যে কম্পাউন্ডার ও ড্রেসারদের দিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। এতে সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে যশোর থেকে পশু চিকিৎসক এনে গাভীর চিকিৎসা করাতে হয়।
দাসেরডাঙ্গা গ্রামের খামারি বাবলু মিয়া বলেন, লোহাগড়ার পশু হাসপাতালের ডাক্তার আমাদের সাথে ভালো ব্যবহার করেন না। সেখানে গরু নিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার চিকিৎসা না দিয়ে কম্পাউন্ডার দিয়ে এ কাজ করান।
গন্ধবাড়িয়া গ্রামের মুরগি খামারি ফারুক মোল্যা জানান, মুরগির রোগবালাই হলে লোহাগড়া পশু হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা দেয় না।
লোহাগড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী মুস্তাইন বিল্লাহ দাবি করে বলেন, বিভাগীয় কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে আমি এখানে (অফিস) বসবাস ও ভাড়া পরিশোধ করে আসছি।  কোন বিভাগীয় কর্মকর্তার অনুমতি দিয়েছেন- এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি।

আরও পড়ুন