৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে বিভক্ত রায়

আপডেট: 06:49:55 15/01/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : দল থেকে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার কারণে আসন শূন্য হওয়ার বিধানসম্বলিত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা প্রশ্নে বিভক্ত আদেশ এসেছে হাইকোর্ট থেকে।
এ বিষয়ে গতবছর দায়ের করা একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে সোমবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের বেঞ্চ এই বিভক্ত আদেশ দেয়।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কেন সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল দেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী।
অন্যদিকে বিচারপতি আশরাফুল কামাল এর সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে রিট আবেদনটিই খারিজ করে দেন।
নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি এখন প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। তিনি রিট শুনানির জন্য নতুন একটি একক বেঞ্চ ঠিক করে দেবেন। সেই বেঞ্চেই এর নিষ্পত্তি হবে।
রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার কারণে আসন শূন্য হওয়া সংক্রান্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের ১৭ এপ্রিল এই রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।
হাইকোর্টে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।”
রিট আবেদনটি করার পর ইউনুছ আলী আকন্দ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “একজন সংসদ সদস্য জনগণের প্রতিনিধি। কিন্তু সংসদে দলের বাইরে নিজস্ব মত দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হচ্ছে এই ৭০ অনুচ্ছেদ। কারণ দলের সিদ্ধান্তের বাইলে গেলে তার সংসদ সদস্য পদ থাকছে না। ফলে এটি অগণতান্ত্রিক এবং সংবিধানের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”
সোমবার হাইকোর্টের বিভক্ত আদেশে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী তার আদেশে বলেন, “ষোড়শ সংশোধনীর মামলায় হাই কোর্ট বলেছেন, ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্যরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে আপিল বিভাগও এ অভিমত বহাল রেখেছেন।
“সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক। অথচ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, এমপিরা নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারবে না। এখানে সংসদ সদস্যরা স্বাধীন নন। তারা নিজ দলের কাছে পরাধীন। তারা স্বাধীনভাবে কোনো মতামত দিতে পারেন না। সংসদে কোনো গণবিরোধী আইন পাস হলে সেখানেও তিনি নিজের দলের পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য।
“কিন্তু সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধি। দল যা বলবে এমপিরা তাই করবে- এমন হওয়ার জন্য জনগণ তাদের ম্যান্ডেট দেয়নি। জনগণ ম্যান্ডেট দিয়েছে যাতে স্বাধীনভাবে তাদের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন, জনস্বার্থে কাজ করেন। এখানে ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সব ক্ষমতার অধিকারী হচ্ছে রাজনৈতিক দল, জনগণ নয়। এসব কারণে এটা সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”
অন্যদিকে বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল তার আদেশে বলেন, “আদালত আইন প্রণয়ন করতে পারে না। আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়ারও এখতিয়ার নাই। সংসদ প্রণীত আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা সেটা দেখার জন্যই আদালতের সৃষ্টি। বিচার বিভাগকে তার নিজস্ব গণ্ডি সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। এজন্যই রিটটি খারিজ করা হলো।”
সূত্র : বিডিনিউজ

আরও পড়ুন