উপ-সহকারী দিয়ে চলছে মণিরামপুর হাসপাতাল

আপডেট: 07:28:11 14/10/2018



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা ভেঙে পড়েছে। এলোমেলোভাবে চলছে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন চিকিৎসক নিয়োগ থাকলেও ঠিকমতো কর্মস্থলে আসেন না কেউ। তাদের পরিবর্তে হাসপাতাল চলছে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) দিয়ে।
আর হাসপাতালের এমন চিত্র দৈনন্দিন হলেও এই ব্যাপারে প্রশাসনের নেই কোনো তৎপরতা। ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা পড়ছেন চরম বিপাকে। নামমাত্র চিকিৎসা নিয়ে তাদের ফিরতে হচ্ছে বাড়িতে।
রোববার বেলা ১২টার দিকে সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে বিভিন্ন কক্ষে অন্তত সাতজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারকে চিকিৎসাসেবা দিতে দেখা গেছে। এসময় কোনো মেডিকেল অফিসারের দেখা মেলেনি। যদিও হাসপাতালে রাজিবকুমার পাল, অনুপকুমার বসু, আহম্মেদ আল-মারুফ, জেসমিন সুমাইয়া ও মাহমুদা আক্তার- এই পাঁচজন মেডিকেল অফিসার নিয়োগ রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
বেলা ১২টা ২০ মিনিটে বহির্বিভাগে টিকেট কাউন্টারে খবর নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ৩০০ রোগী কাউন্টার থেকে টিকেট সংগ্রহ করেছেন। আর দুই নম্বর কক্ষে বসে এসব রোগীকে সেবা দিচ্ছেন উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার মেহেদী হাসান, ছয় নম্বর কক্ষে জিএম মাসুদ ও আনিছুর রহমান, দশ নম্বর কক্ষে আলেক উদ্দিন, ১৩ নম্বর কক্ষে আফসানা ফেরদৌস ও শিউলি আরা বেগম। যদিও এসব উপ-সহকারীকে বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার কথা।
একটু এগিয়ে দেখা দেখা যায়, চার নম্বর কক্ষের সামনে ২০-৩০ জন রোগী টিকিট হাতে দাঁড়িয়ে আছেন, ভেতরে ডাক্তার নেই। রোগীদের সঙ্গে সেখানে বসে আছেন ওষুধ কোম্পানির একজন প্রতিনিধি। খবর নিয়ে জানা যায়, ওই কক্ষে রোগী দেখছিলেন ডাক্তার রাজিব পাল। রোগী ফেলে তিনি বাইরে গেছেন।
জানতে চাইলে ছকিনা বেগম নামে এক বয়োবৃদ্ধ নারী বলেন, ‘আমি দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষায় আছি, ডাক্তার পাইনি।’
একই কথা জানান টিকিট হাতে দাঁড়িয়ে থাকা অন্তরা নামে এক রোগীর স্বজনরা।
এদিকে কিছুক্ষণ পরে চেম্বারে আসেন ডাক্তার রাজিব পাল। জানতে চাইলে তিনি বলেন, জরুরি বিভাগে রোগী থাকায় তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।
জানতে চাইলে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) জিএম মাসুদ বলেন, ‘কী করব! হাসপাতালে ডাক্তার নেই, তাই আমাদের ওপর এতো চাপ।’
এদিকে, জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে তৌহিদুল হাসান নামে একজন উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার রয়েছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন ডিউটি ডাক্তার রাজিব পালের। তিনি কিছুক্ষণ আগে বহির্বিভাগে গেছেন।’
জরুরি প্রয়োজনে তাকে ডেকে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তৌহিদুল হাসান।
আর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চেম্বারে তালা মেরে হাসপাতাল ছেড়েছেন গাইনি বিশেষজ্ঞ রেবেকা সুলতানা। যদিও দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত তার হাসপাতালে থাকার কথা।
জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার শুভ্রারানী দেবনাথ বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। পাঁচজন চিকিৎসকের মধ্যে রাজিব পাল ডিউটিতে আছেন। সকালে জেসমিন সুমাইয়ার আসার কথা ছিল। কিন্তু তার বাচ্চা অসুস্থ হওয়ায় আসতে পারেননি। ডাক্তার আহম্মেদ আল মারুফ রাতে ডিউটি করেছে বলে দিনে তার অফ। রাতে অনুপ বসু আসবেন।’ আর ডাক্তার মাহমুদা আক্তার ছুটি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানান শুভ্র দেবনাথ।

আরও পড়ুন