এক সালমার বিরুদ্ধে কত অভিযোগ!

আপডেট: 02:18:33 17/09/2018



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের ওয়েলফেয়ার ভিজিটর (এফডব্লিউভি) সালমা খাতুনের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে অবৈধভাবে ডিঅ্যান্ডসি, এমআর করা, কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরকীয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।
এসব অভিযোগ তুলে ধরে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ২০ আগস্ট অরুণ রায় নামে এক ব্যক্তি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সরেজমিন অভিযোগের তদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এই সংক্রান্ত একটি টিম ওই দিন সকালে মণিরামপুরে আসবে।
সংস্থাটির যশোরের উপ-পরিচালক মুন্সি মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত তদন্ত সংক্রান্ত একটি চিঠি রোববার হাতে পেয়েছেন মণিরামপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. চন্দ্রশেখর। রোববার রাতে সুবর্ণভূমিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি।
অভিযোগ বলা হয়, মণিরামপুর হাসপাতালে সেবা নিতে আসা নারীদের ডিঅ্যান্ডসি ও এমআর করানোর দায়িত্বে নিয়োজিত এই সালমা খাতুন। এসব সেবা বিনামূল্যে দেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া আড়াই মাসের বেশি সময় আগে সন্তান ধারণকারী কোনো নারীর ডিঅ্যান্ডসি করানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এসবের কোনো তোয়াক্কা করেন না সালমা। তার বিরুদ্ধে ৫-৭ মাসের গর্ভবতী নারীর ডিঅ্যান্ডসি করানোর অভিযোগ রয়েছে অনেক। যদিও হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে তিনি সংশ্লিষ্ট নারীর গর্ভধারণের মেয়াদ আড়াই মাসই লেখেন। আর এসব কাজে তিনি হাতিয়ে নেন ৩-৫ হাজার টাকা করে। ফলে বেতন বাদেও তিনি প্রতি মাসে অবৈধভাবে উপার্জন করেন লক্ষাধিক টাকা।
অভিযোগ করা হয়েছে, কয়েকবছর আগে চালুয়াহাটি ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সেখানকার কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার কামরুজ্জামানের (বর্তমানে কেশবপুরে কর্মরত) সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় এলাকাবাসীর কাছে হাতেনাতে ধরা পড়েন সালমা। তখন তাকে কেশবপুরে বদলি করা হয়। কিন্তু সেখানে অবৈধ আয়-রোজগারে সুবিধা করতে না পেরে দেনদরবার করে তিনি আবার মণিরামপুরে চলে আসেন।
অভিযোগ আনা হয়েছে, মণিরামপুরে দায়িত্বে থাকা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক মেডিকেল অফিসার ডা. দ্বীন মোহাম্মদের (বর্তমানে ডুমুরিয়ায় কর্মরত) সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ছিল সালমার। কেশবপুরে নুরুন্নাহার নামে এক এফডব্লিউভির পরিবারে অশান্তির কারণ এই সালমা। সম্প্রতি কেশবপুর বাজারে একটি চায়ের দোকানে তাকে প্রকাশ্যে ঝাড়ুপেটা করার ঘটনাও ঘটেছে বলে খবর রটে। শুধু তাই না, মণিরামপুরের একই বিভাগের বর্তমান মেডিকেল অফিসার ডা. চন্দ্রশেখরের সঙ্গেও নাকি রয়েছে এই সালমার পরকীয়া। যার কারণে সালমা দিনের পর দিন অপরাধ করে চললেও চন্দ্রশেখর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
এদিকে হাসপাতালের একাধিক সূত্র বলছে, অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তান ধারণকারী অনেক অবিবাহিত তরুণীর ডিঅ্যান্ডসি করান সালমা। এমনকি কুমারীদের জন্ম নিয়ন্ত্রণকারী ইনজেকশনও দেন তিনি। আর এসব কাজে এলাকাভিত্তিক কয়েকজন কর্মী রেখেছেন সালমা। যাদের মক্কেল প্রতি কমিশন দিয়ে থাকেন তিনি।
আবার সম্প্রতি মণিরামপুর হাসপাতালে নবজাতক রেখে যে নারী পালিয়েছিলেন, তিনিও ছিলেন এই সালমার মক্কেল। সালমা পাঁচ হাজার টাকা চুক্তিতে অবৈধ ওই সন্তান নষ্ট করিয়ে দেবেন বলে চুক্তি করেছিলেন। কিন্তু তিনি শেষতক পেরে না ওঠায় ওই নারীকে হাসপাতালের নার্স হ্যাপি রায়ের কাছে পাঠান। তখন সন্তান জন্ম দিয়ে নবজাতক ফেলে রেখে চলে যান ওই নারী। বিষয়টি জানাজানি হলে নবজাতকটি গায়েব করে ফেলে ওই চক্র। তদন্ত কমিটি গঠনের পরও সেই নবজাতকের খোঁজ মেলেনি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কথা বলতে রাজি হননি সালমা খাতুন। অসুস্থতার কথা বলে তিনি ফোন রেখে দেন।
ডা. চন্দ্রশেখরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সালমার ব্যাপারে অনেক কথাই শুনি। তাকে কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছে। তিনি শোনেননি। আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সত্যি নয়।’
চন্দ্র শেখর বলেন, ‘সালমার বিরুদ্ধে একটি ঠিকানাবিহীন অভিযোগ বিভাগীয় পরিচালকের অফিসে জমা পড়েছে। অভিযোগটি করেছেন অরুণ রায় নামে এক ব্যক্তি। মঙ্গলবার তদন্ত টিম মণিরমাপুরে আসার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন