বই বিক্রির ঘটনায় শিক্ষকসহ আটজনের নামে মামলা

আপডেট: 06:30:14 15/01/2018



img

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি : লোহাগড়ায় মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণির বিক্রি নিষিদ্ধ বই কালোবাজারে বেচার অভিযোগে শালনগর মডার্ন অ্যাকাডেমির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কাজী মহিউদ্দীনসহ আজজনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাদী হয়ে এ মামলা করেন। তবে পুলিশ এজাহারভুক্ত কোনো আসামিকে আটক করতে পারেনি।
এজাহারে বলা হয়েছে, উপজেলার শালনগর মডার্ন অ্যাকাডেমির (মাধ্যমিক বিদ্যালয়) থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক মুদ্রিত সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির ২০১৮ ও ২০১৭ সালের ৬৩০খানা বই শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ না করে লাহুড়িয়া বাজারের ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী ইকরামুল বিশ্বাস ও লালচাঁদের কাছে কেজি দরে বিক্রি করে দেওয়া হয়। গত শনিবার রাতে ক্রেতারা ওই বই বিদ্যালয় থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে লাহুড়িয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই শফিকুল ইসলাম ওই বই নিজের হেফাজতে নিয়ে শালনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খান তসলুর রহমানের জিম্মায় দেন।
এ ঘটনায় গত রোববার রাতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুর রহমান বাদী হয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কাজী মহিউদ্দীন, সহকারী শিক্ষক গোপাল কুণ্ডু, দপ্তরি ইউনুচ মোল্যা, নৈশপ্রহরী ফজলুল হক, ভ্যানচালক ইকরামুল বিশ্বাস, আলম বিশ্বাস, ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী মহব্বত বিশ্বাস ও লালচাঁদকে আসামি করে থানায় মামলা করেন ।
লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের সিডিউলভুক্ত বিধায় সোমবার দুপুরে দুদক বরাবর মামলার নথি পাঠানো হয়েছে।’
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালে দুদক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের বইয়ের গোডাউন থেকে মাধ্যমিক স্তরের তিন রুম ভর্তি অতিরিক্ত বই জব্দ করেছিল। ওই ঘটনায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তার আস্থাভাজন উপজেলার বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানপ্রধানের যোগসাজসে অতিরিক্ত বই নেওয়ার পর তা কালোবাজারে বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নেন।

আরও পড়ুন