তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা ফিরে পেলেন যেভাবে

আপডেট: 01:25:17 15/03/2018



img
img
img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে কর্মরত ট্রাফিক কনস্টেবল মো. সেলিম হোসেনের বুদ্ধিমত্তায় বুধবার রাতে নগদ তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা ফেরত পেয়েছেন সাইদুজ্জামান বিটন নামে এক ব্যবসায়ী।
টাকা হারিয়ে বিটন যখন এদিক সেদিক পাগলের মতো ঘুরছিলেন, ঠিক সেইসময় আরো কয়েকজন কনস্টেবল তাকে খুঁজে ট্রাফিক পুলিশের যশোর কার্যালয়ে নিয়ে যান। ফেরত দেন টাকাসহ ব্যাগটি।
সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী বিটন জানান, রাত সাড়ে সাতটার দিকে তিনি স্ত্রী ও সন্তানসহ শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোড এলাকা থেকে একটি রিকশায় ওঠেন। কিছুদূর এগিয়ে দড়াটানার কাছে প্রাইম হাসপাতালের সামনে নামেন। এখানে তিনি সন্তানকে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলেন। তড়িঘড়ি করে নামার কারণে রিকশার সিটের পেছনে তার টাকাভর্তি কালো রঙের ব্যাগটি ফেলে যান। ব্যাগের ভেতরে ছেলের চিকিৎসাপত্রটিও ছিল। ডাক্তারের চেম্বারে ঢোকার আগমুহূর্তে চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রটি খুঁজতে গিয়ে দেখেন ব্যাগটি নেই! সেইসময়ই তিনি ও তার স্ত্রী হাসপাতাল থেকে বের হয়ে সেই রিকশাটি খুঁজতে থাকেন। কিন্তু খুঁজে পাননি। প্রায় আধাঘণ্টা এভাবে খুঁজে যখন হয়রান, তখনই দেখতে পান কয়েক ট্রাফিক পুলিশ তাদের সামনে।
এদিকে, শহরের দড়াটানা মোড় ট্রাফিক বক্সের সামনে দায়িত্ব পালন করছিলেন কনস্টেবল মো. সেলিম হোসেন। তিনি খালি একটি রিকশায় কালোরঙের ব্যাগটি দেখতে পেয়ে চালককে থামতে বলেন। জানতে চান, ব্যাগটি কার, এরমধ্যে কী আছে? রিকশাচালক যুবকটির নাম সাদ্দাম হোসেন। তিনি ব্যাগটি কার বা এরমধ্যে কী আছে তা বলতে পারেননি। ব্যাগটি সম্ভবত কোনো প্যাসেনজারের বলে জানান রিকশাচালক সাদ্দাম। এসময় ট্রাফিক কনস্টেবল সেলিম সেটি খুলে দেখেন, তার মধ্যে এক হাজার, ৫০০, ১০০ টাকার নোটের বেশকিছু বান্ডিল রয়েছে। তিনি তখনই ব্যাগটি তাদের অফিসে নিয়ে যান এবং ট্রাফিক ইনসপেক্টর (প্রশাসন) মো. শাখাওয়াৎ হোসেনের জিম্মায় দেন।
রিকশাচালক সাদ্দাম জানান, ট্রাফিক পুলিশ দাঁড় করিয়ে ব্যাগ কার এবং ওর মধ্যে কী আছে- জানতে চান। 'আমি কিছুই জানি না' বললে তিনি ব্যাগটি খুলে তাতে টাকা দেখতে পান এবং আমাকেসহ ব্যাগটি অফিসে নিয়ে যান।
ট্রাফিক ইনসপেক্টর (প্রশাসন) মো. শাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, 'ব্যাগের ভেতর অনেক টাকা দেখে আমি সেইসময় অফিসের বকশি সোহরাবসহ তিনজন কনস্টেবলকে দড়াটানায় পাঠাই। বলি, টাকা হারিয়েছে- এমন কাউকে খুঁজে বের করতে।
কিছুসময় পর বিটন সাহেব ও তার স্ত্রী-সন্তানকে পুলিশ সঙ্গে করে অফিসে নিয়ে আসে। আমরা তার কাছ থেকে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে নিশ্চিত হই ব্যাগটি বিটন সাহেবেরই। এরপর তার কাছ থেকে লিখিত নিয়ে নগদ তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা, একটি সোনার আংটি, একটি মানিব্যাগসহ আরো কিছু জিনিসপত্র তাদের বুঝিয়ে দিই।'
ব্যবসায়ী বিটন বলেন, 'কাল বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) একটি জলমহাল ইজারার দিন। আমি সেই টেন্ডারে অংশ নিতে এবং পে-অর্ডারের জন্যে টাকা এনেছিলাম। ঘোপে শ্বশুরবাড়ি। ছেলেটি অসুস্থ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসি।'
তিনি বলেন, ট্রাফিক কনস্টেবল মো. সেলিম হোসেনের বুদ্ধিমত্তা এবং রিকশাচালকের মহানুভবতার কারণে টাকা ফেরত পেয়েছি। এ জন্যে তাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।'
'ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের আপ্যায়িত করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা এতে মোটেও মত দেননি। তবে রিকশাচালক ছেলেটিকে খুশি হয়ে পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছি,' যোগ করেন বিটন।
বিটনের বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী-পানবুড়ি এলাকায়। তিনি সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী এবং একটি মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের ডিলার।

আরও পড়ুন