রশি ধরে নৌকায় নদী পার

আপডেট: 03:40:41 18/11/2018



img

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : পাইকগাছায় গড়ইখালী ইউনিয়নের ঘোষখালী নদীটিতে পারাপারের জন্য ব্রিজ না থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ২০ গ্রামের মানুষ। নদীর পাঁচটি স্থানে বৈঠা ছাড়া নৌকায় চড়ে রশি টেনে পার হতে হয় যাত্রীদের।
উপজেলার দশটি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত ইউনিয়নগুলোর মধ্যে গড়ইখালী অন্যতম। সুন্দরবন ও কয়রা উপজেলার সীমান্তে গড়ইখালীর অবস্থান। এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা কয়েক বছরের ব্যবধানে কিছুটা উন্নত হয়েছে। তবে এখনো তা অনেক এলাকার তুলনায় খুবই অনুন্নত। বিশেষ করে ইউনিয়নের মধ্যে রয়েছে প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ ঘোষখালী নদী। নদীর দুই পারের লোকজনের পারাপারে একমাত্র মাধ্যম নৌকা। পারাপারের জন্য পাঁচটি স্থানে ব্যবস্থা রয়েছে। যার মধ্যে শান্তা-ফকিরাবাদ, কুমখালী-মসজিদ খেয়াঘাট, কুমখালী হুগলার চক-কলেজ খেয়াঘাট, হুগলার চক কুমখালী-সন্ন্যাসীর খেয়াঘাট, আমিরপুর বাইনবাড়িয়া-ক্যাম্প খেয়াঘাট ও কাঁঠালতলা খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নদী পার হন। নদীর দুইধারে লম্বা রশি টানা। নৌকায় চড়ে রশি ধরেই পার হতে হয় যাত্রীদের।
নদীর উত্তর পাশে রয়েছে শহীদ আইয়ুব ও মুছা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ। এখানে রয়েছে সমাপনী, জেএসসি, এসএসসি, ও এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র। ফলে পাশের কয়রা উপজেলার সাধারণ মানুষসহ অসংখ্য শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীকে নদী পার হয়ে স্কুল, কলেজ ও দৈনন্দিন কাজ করতে হয়।
কয়রার হড্ডা গ্রামের ঝুমা মণ্ডল জানান, নদী পারাপারে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন কলেজে যাতায়াত করতে হয়। অনেক সময় নৌকা থেকে পড়ে যাওয়াসহ যাত্রী বেশি হলে নৌকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ব্রিজ থাকলে শত শত শিক্ষার্থীকে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।
কুমখালী গ্রামের রমেশচন্দ্র মণ্ডল জানান, বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ একাধিকবার সমীক্ষা করেছেন। কিন্তু ব্রিজ করার কোনো লক্ষণ আজও চোখে পড়েনি।
নদীর ওপর কমপক্ষে ২-৩টি ব্রিজ নির্মিত হলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বিশ্বাস।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ও কুমখালী গ্রামের সন্তান ইঞ্জিনিয়ার প্রেমকুমার মণ্ডল জানান, মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ইতিমধ্যে কলেজ খেয়াঘাট ও ক্যাম্প খেয়াঘাট এলাকায় দুটি ব্রিজ নির্মাণের ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন