কাজ শুরু হয়েছে কালনা সেতুর

আপডেট: 08:27:06 23/10/2018



img

রূপক মুখার্জি, লোহাগড়া (নড়াইল) : দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লোহাগড়া উপজেলার পূর্বাঞ্চলের মধুমতি নদীর কালনা পয়েন্টে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
কালনা সেতুটি হবে ছয় লেনের। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ক্রসবর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় এই সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, কালনা ফেরিঘাটের দক্ষিণে নির্মিত হবে সেতুটি। এর উভয় পাড়ে ব্রিজ নির্মাণের জন্য মালামাল আনা শুরু হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সেতু কর্তৃপক্ষ লোহাগড়ার মদিনাপাড়ায় ভাড়া বাড়িতে তাদের কার্যালয় স্থাপন করেছে। মদিনাপাড়ার একটু পুবে গন্ধবাড়িয়া এলাকায় তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ছয় লেনের এই সেতুটি হবে এশিয়ান হাইওয়ের অংশ। চারটি মূল লেনে দ্রুতগতির এবং দুটি লেনে ধীরগতির যানবাহন চলাচল করবে। সেতুটির দৈর্ঘ্য হবে ৬৯০ মিটার এবং প্রস্থ ২৭ দশমিক ১ মিটার। উভয় পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক হবে ৪ দশমিক ৩০ কিলোমিটার। সেতুটি নির্মাণের প্রাথমিক খরচ ধরা হয়েছে ৯৫৯ কোটি টাকা। পরে নির্মাণ ব্যয় বাড়তে পারে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে সেতুটি নির্মিত হবে। জাপানের টেককেন করপোরেশন ও ওয়াইবিসি এবং বাংলাদেশের আব্দুল মোমেন লি. যৌথভাবে এই সেতুর ঠিকাদার।
প্রকল্পের ব্যবস্থাপক সুমন সিংহ বলেন, গত ২৪ জুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেতু কর্তৃপক্ষের কার্যাদেশ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। তখন থেকে ৩৬ মাসে অর্থাৎ তিন বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সেতুর পাইলিং শুরু হবে। ডিসেম্বর থেকে সেতুর মূল পাইলিংয়ের কাজ শুরু হবে। এর সঙ্গে সংযোগ সড়কের কাজও চলবে।
ক্রসবর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের পরিচালক কে এম আতিকুল হক বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ও ব্যতিক্রমী ছয় লেনের সেতু হবে এটি। এমন সেতু দেশে প্রথম নির্মাণ হচ্ছে বলে তিনি জানান।
সেতু চালু হলে উভয় পাড়ের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দশ জেলার মানুষের দুর্ভোগ অনেক কম হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর নড়াইলে এক নির্বাচনী জনসভায় এইখানে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন