লীগ ক্ষমতায় থাকলে লম্পটরা বেপরোয়া হয় : আফরোজা

আপডেট: 04:23:31 17/10/2017



img

খুলনা অফিস : জাতীয়তাবাদী মহিলাদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাস ক্ষোভের সঙ্গে বলেছেন, এই অবৈধ অনির্বাচিত জালেম সরকার চাঁদনীদের মতো মেধাবী কোমলমতি মেয়েদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না। অথচ শাসক দলের নেতানেত্রীদের ছত্রছায়ায় শুভর মতো লম্পট কুলাঙ্গাররা দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, অপহরণের মতো একের পর এক লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম হয়।
চাঁদনী হত্যার বিচার দাবিতে তিনি মহিলা দলকে রাজপথে তীব্রতর আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মহিলাদল বাগেরহাট জেলা শাখার কর্মিসভায় উদ্বোধনকালে দেওয়া বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাস এসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় খুলনা মহানগরীর কে ডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয়ে এ কর্মিসভা অনুষ্ঠিত হয়। সহস্রাধিক মহিলা কর্মীর উপস্থিতিতে বাগেরহাটে জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বাধা ও নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশি তল্লাশি ও গণগ্রেফতার শুরু হওয়ায় সে উদ্যোগ পণ্ড হয়। পরে খুলনায় একটি অডিটোরিয়ামে কর্মিসভার আয়োজন করা হলেও প্রশাসনের অনুমতি মেলেনি। শেষে সোমবার গভীর রাতে খুলনা বিএনপি অফিসে কর্মিসভার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আফরোজা আব্বাস তার বক্তৃতায় বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার সভা সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকারের মসনদ টিকিয়ে রাখা যাবে না। এদের পতনঘণ্টা বেজে গেছে। ’
মহিলাদলকে অত্যন্ত সুসংগঠিত ও শক্তিশালী সংগঠন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে ভালো মানুষদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে হবে।’
খুব শিগগির বাগেরহাটেই মহিলাদলের বিশাল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেই কর্মসূচি কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।’
বেগম জিয়া দেশে ফিরে আন্দোলনের যে কর্মসূচি দেবেন, মহিলাদলের কর্মীদের রাজপথে থেকে সে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান তিনি।
বাগেরহাট জেলা মহিলা দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপক সাহিদা আক্তারের সভাপতিত্বে কর্মিসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম।
প্রধান বক্তা ছিলেন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ।
অধ্যাপক নার্গিস আক্তার লুনার সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট অহেদুজ্জামান দীপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ফিরোজা বুলবুল কলি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলী রেজা বাবু।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহিলাদল নেত্রী অ্যাডভোকেট আক্তারুন্নেছা, শিরিনা আক্তার, আফরোজা বেগম, কোমেলা বেগম, আসমা আজাদ, সাবিনা ইয়াসমিন টুলু ও নার্গিস আক্তার ইভা।
এ সময় মহিলাদল খুলনা মহানগর সভাপতি রেহানা আক্তার ও জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট তছলিমা খাতুন ছন্দা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান বক্তা সুলতানা আহমেদ বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় এ দেশের নারীরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ভালোবাসে। নির্বাচনে তারা ধানের শীষেই ভোট দেয়। এ জন্য নারীদের প্রতি আওয়ামী লীগের যতো রাগ। তারা ক্ষমতায় থাকলে নারী নির্যাতন ইতিহাসের সকল রেকর্ড ভেঙে যায়।’

বাগেরহাট জেলা বিএনপি নেতাদের ক্ষোভ
অপরদিকে বাগেরহাট জেলা মহিলাদলের কর্মিসম্মেলন খুলনা মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই জেলা বিএনপির কয়েক নেতা। জেলা বিএনপির নেতাদের কিছু না জানিয়ে এই ‘নাটক’ করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।
বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রতিবাদে কোনো কর্মসূচি তারা পালন করেননি উল্লেখ করে নেতারা প্রশ্ন রাখেন, ‘সম্মেলনের নাটকের নামে খুলনায় আসলেও ওই সব কর্মসূচিতে তারা খুলনায় আসেন না কেন?’
বাগেরহাট জেলা বিএনপির সহসভাপতি মনিরুল ইসলাম খান বলেন, ‘দলের নেতা- কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কহীনতার কারণেই জেলার নেতৃত্ব পালিয়ে বেড়ান। দলের ১৮ জন সহসভাপতি ও গোলাম শ্রেণির ১-২ জন ছাড়া কেউ নেই।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাগেরহাট জেলা বিএনপি এখন কোমায় আছে। বাঁচাতে হলে কমিটি ভেঙে নতুন নেতৃত্ব দেওয়া জরুরি। তা না হলে জেলায় বিএনপিকে বাঁচানো যাবে না।’

আরও পড়ুন