দেবর-ভাবি পরকীয়ায় জীবন যায় রাকিবের

আপডেট: 03:10:53 12/10/2017



img

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রবাসী যুবক আলোচিত রাকিবুল ইসলাম হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, পরকীয়া বা অবৈধ সম্পর্ক স্থায়ী করতে স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের পরিকল্পনায় ভাড়াটে কিলাররা তাকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়। ঘটনার দিন ছোট ভাই রকিবুল ইসলাম নিজে মোটরসাইকেলে করে বড় ভাই রাকিবকে হত্যাকারীদের হাতে তুলে দিয়ে আসে। গ্রেফতার ছোট ভাই রকিবুল আদালতে এমন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আটক স্ত্রী নাইমা সুলতানা তিশাকে আজ আদালতে হাজির করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে নিজ কার্যালয়ে প্রেস বিফ্রিংয়ের এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এস এম মেহেদী হাসান।
তিনি বলেন, ‘কুমারখালীর পাহাড়পুর স্কুলপাড়ার মন্টু বিশ্বাসের ছেলে নিহত রাকিবুল ২০০৮ সালে মালয়েশিয়া যান। রাকিবুল যখন বিদেশে তখন এক সন্তানের মা তার স্ত্রী নাইমা সুলতানা তিশার সাথে ছোট ভাই রকিবুলের পরকীয়া সম্পর্ক হয়। সম্প্রতি বাড়িতে এসে রাকিবুল বিষয়টি টের পেলে স্ত্রী ও ছোট ভাই তাদের অবৈধ সম্পর্ক স্থায়ী করতে রাকিবুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাকিবকে হত্যার জন্য তার ছোটভাই দুই লাখ টাকায় সন্ত্রাসী ভাড়া করে ৫৭ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করে। ৫ অক্টোবর রাতে পাশের গ্রাম কাঞ্চনপুরে শ্বশুরবাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে নিজের বাড়িতে আনার নাম করে রকিব তার বড় ভাই রাকিবকে নদীর ধারে বাঁধবাজার এলাকায় সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দিয়ে আসে। ওই রাতেই সন্ত্রাসীরা রাকিবকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়। তিনদিন পর ৮ অক্টোবর সকালে কুমারখালীর বাঁধবাজার এলাকার কালীনদীতে রাকিবের লাশ ভেসে উঠলে তা উদ্ধার করে পুলিশ।’
এসপি জানান, পরদিন রাকিবের বাবা আটজনের নাম উল্লেখ করে কুমারখালী থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ এদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। তদন্তে বেরিয়ে আসে, স্ত্রী তিশা ও ছোট ভাই রকিবুলের অবৈধ সম্পর্ক ও হত্যার পরিকল্পনা। এরপর গ্রেফতার রকিবুল গতকাল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
বিফ্রিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, দ্রুত ভাড়াটে কিলারদেরও গ্রেফতার করা হবে।।

আরও পড়ুন