পাটে গচ্চা লোহাগড়ার কৃষকের

আপডেট: 02:30:00 22/09/2017



img

রূপক মুখার্জি, লোহাগড়া (নড়াইল) : ফলন ভালো হয়েছে। তবে চাষিরা পাটের দাম পাচ্ছেন না প্রত্যাশামতো।
চাষিরা বলছেন, বাজার তদারকির অভাবে তাদের কষ্টের ফল ভোগ করছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা। দাম নি¤œমুখী হওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, উল্টো গচ্চা দিতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়ায় এবার মোট ১৩ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু কৃষকদের মাঝে পাট চাষে অনাগ্রহ ও দাম নিয়ে হতাশার কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা সম্ভব হয়নি। এবছর ৮৩০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম পাট আবাদ হয়েছে।
চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গড়ে একরপ্রতি জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করতে দুই হাজার ২০০ টাকা, বীজ বাবদ ৬০০, রাসায়নিক সার বাবদ দুই হাজার, সেচ বাবদ আট হাজার, আগাছা পরিষ্কার বাবদ শ্রমিক খরচ নয় হাজার, পাট কাটা ও জাগ (পচানো) দেওয়া বাবদ ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সেই হিসেবে এক একর জমিতে মোট খরচ হয়েছে ৫১ হাজার ৮০০ টাকা। জমির প্রকারভেদে গড়ে পাট উৎপাদন হয়েছে একরপ্রতি ৩০ মণের মতো। যার বর্তমান বাজার মূল্য পাটকাঠিসহ গড়ে ৪৭  হাজার টাকা। ফলে কৃষককে পাট চাষে একর প্রতি লোকসান গুনতে হচ্ছে চার হাজার ৮০০ টাকা।
এলাকার হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত।
উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের ঘাঘা পূর্বপাড়ার কৃষক শেখ তুষার বলেন, ‘এবছর আমি ছয় একর জমিতে পাট আবাদ করেছিলাম। তবে বর্তমানে পাটের যে দাম সেই হিসেবে লোকসানে আছি। সরকার যদি ন্যূনতম মণ প্রতি পাটের দাম দুই হাজারের ্ওপর নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে চাষিরা বাঁচে। না হলে চাষিরা পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। 
কৃষকদের ভাষ্য, উপজেলায় সরকারিভাবে পাট ক্রয় কেন্দ্র না থাকায় মধ্যস্বত্বভোগী ও ফড়িয়ারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। তারা যে দাম নির্ধারণ করে দেন, চাষি সেই দামে বেচতে বাধ্য।
লোহাগড়া বাজারের পাট ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন ও আশরাফুল আলম জানান, গতবছর বিভিন্ন জেলার জুটমিল থেকে পাইকারি পাট কিনতে মহাজনরা আসতেন। কিন্তু এ বছর কেউ এখনো পাট কিনতে আসছেন না। ফলে ব্যবসায়ীরা পাট কিনতে ভয় পাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমরেণ বিশ্বাস বলেন, ‘গতবছর পাটের ভালো দাম না পাওয়ায় এবছর চাষিরা আউশ ও আমন ধান চাষে ঝুঁকেছেন। ফলে পাটে চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।’

আরও পড়ুন