মারা গেলেন বেনাপোলের কলেজছাত্র টুটুল

আপডেট: 03:27:31 21/07/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : বিদ্যুৎস্পর্শে ঝলসে যাওয়া কলেজছাত্র মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল মারা গেছেন। তিনি যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার বড়আঁচড়া গ্রামের আবিদুর রহমানের ছেলে ও নাভরন ডিগ্রি কলেজের অনার্সের ছাত্র।
গত ১৫ জুলাই বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনাল খেলা দেখার জন্য টুটুল ও তার ভাই বেনাপোলের গাতিপাড়া সড়কে জনৈক বাবুর মার্কেটের ছাদে কেবল লাইনের সংযোগ ঠিক করছিলেন। এ সময় ছাদের ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের মেইন তারে জড়িয়ে টুটুল গুরুতর আহত হন।
প্রথমে যশোর জেনারেল হাসপাতাল ও পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ভর্তি করা হয়। তার শরীরের ৬০ ভাগ ঝলসে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২০ জুলাই) বিকেলের দিকে তার মৃত্যু হয়।
রাতে মরদেহ বেনাপোলের বাড়িতে এসে পৌঁছালে সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে।
শনিবার সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে টুটুলকে দাফন করা হয়।
মা শাহিনুর বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গত বছর এ মার্কেট নির্মাণ করার সময় এক নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এবার মৃত্যু হলো আমার ছেলের। শ্রমিক মৃত্যুর পর যদি বিদ্যুৎ ও মার্কেট কর্তৃপক্ষ বিদ্যুতের তারে কাভার লাগাতেন, তাহলে হয়তো এ দুর্ঘটনা ঘটতো না।’
এদিকে, আহত টুটুলকে বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল ঢাকাস্থ বেনাপোল সমিতি। খবর পেয়ে সমিতির সদস্যরা টুটুলকে দেখতে ঢাকা মেডিকেলে যান। তারা টুটুলের মায়ের হাতে আর্থিক সাহায্যও তুলে দেন। কিন্তু সবার চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে টুটুল চলে যান পরপারে।
তার মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢাকা বেনাপোল সমিতির কর্মকর্তারা আবারো ছুটে যান হাসপাতালে। সেখানকার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তারা মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াও যোগায় সমিতি। তাদের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বেনাপোলের লোকজন।

আরও পড়ুন