ভাঙন আতঙ্কে ইছামতি তীরবর্তীরা

আপডেট: 08:19:39 04/05/2018



img

জি এম আব্বাসউদ্দীন, দেবহাটা (সাতক্ষীরা) : দেবহাটা উপজেলার গা-ঘেঁষে বয়ে যাওয়া ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত নদী ইছামতির কয়েকটি স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে ভেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন গ্রামবাসী।
সহায় সম্পদ রক্ষার জন্য তাদের খাওয়া ঘুম প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় গ্রামবাসীর আতংক আরো বেড়ে চলেছে।
অপরিকল্পিতভাবে চিংড়ি চাষ এবং গুটিকয়েক মানুষের ঠেলা জাল নদীতে ফেলার কারণে দেবহাটা উপজেলার চরকোমরপুর, ভাতশালা, টাউনশ্রীপুর, সুশীলগাতী ও নাংলাসহ কয়েকটি স্থানের ভেভিবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বছরে যে সামান্য কাজ হয়েছিল সেসব স্থান ছাড়াও বাঁধের নতুন নতুন জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।
গ্রামবাসী জানান, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদীপাড় থেকে বালি তোলার কারণে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বড় ধরনের জোয়ার বা বৃষ্টি হলেই বাঁধ ভেঙে যেতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে নাংলা ছুটিপুর, সুশীলগাতী এলাকার বিজিবি পোস্টের সামনে, টাউনশ্রীপুর ও ভাতশালা। বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকলে কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘটতে পারে প্রানহানিও।
স্থানীয়রা জানান, ভাতশালা থেকে খানজিয়া পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা ড্রেজার মেশিন লাগিয়ে বালি উত্তোলন করছেন। কিন্তু এই কাজ বন্ধ করতে কোনো দপ্তরকে উদ্যোগী হতে দেখা যাচ্ছে না।
তাদের বক্তব্য, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ঝুঁকিতে পড়ে। পাউবো মাঝে মাঝে সংস্কার কাজ করে। কিন্তু তাও নামমাত্র। তার মধ্যে এভাবে প্রকাশ্যে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি ও নদীর মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
গ্রামবাসী জানান, চিংড়িচাষিরা খেয়াল-খুশিমতো মূল বাঁধের গা ঘেঁষে ছোট বাঁধ দিয়ে সর্বনাশ ডেকে এনেছেন। বাঁধের গা ঘেঁষে পোনা ধরা এবং বালি তোলার কারণে বাঁধ ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ অংশে শিবনগরের পাশে রাজনগর মৌজা ইছামতির গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
নওয়াপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি লাভলু বিশ্বাস জানান, নাংলা এলাকার বাঁধটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তারা ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিতভাবে জানিয়েছেন। কিন্তু অনেক দিন পার হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ মুজিবর রহমান জানান, নাংলা এলাকার বাঁধ সংস্কারের বিষয়ে তিনি সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. রুহুল হককে নিয়ে সরেজমিনে দেখিয়েছেন এবং সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছেন। কিন্তু তারা এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, বাঁধ সংস্কারে তারা দ্রুত কাজ শুরু করবেন। তবে ভাঙনকবলিত স্থানগুলো দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল আসাদ পরিদর্শন করেছেন।
ইউএনও জানান, তিনি ইতিমধ্যে ভেড়িবাঁধ সংস্কারের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন।