বহুল আলোচিত সালমাকে মণিরামপুর ছাড়তে হচ্ছে

আপডেট: 02:08:03 22/10/2018



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের আলোচিত-সমালোচিত ওয়েলফেয়ার ভিজিটর (এফডাব্লিউভি) সালমা খাতুনকে বদলি করা হয়েছে। তাকে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
রোববার অফিস সময়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই সংক্রান্ত একটি পত্রাদেশ হাতে পান সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার চন্দ্রশেখর কুণ্ডু। আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে সালমাকে নতন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে।
মণিরামপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার চন্দ্রশেখর কুণ্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চলতি বছরের ২০ আগস্ট অরুণ রায় নামে একব্যক্তি সালমার বিরুদ্ধে মোটা টাকা নিয়ে অবৈধভাবে ডিঅ্যান্ডসি, এমআরকরণ, অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলাসহ নানা অভিযোগ এনে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সরেজমিন তদন্ত করতে মণিরামপুরে আসেন দপ্তরটির যশোরের উপ-পরিচালক মুন্সি মনোয়ার হোসেন। এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনও বিভাগীয় পরিচালক বরাবর পাঠান মুন্সি মনোয়ার হোসেন।
এছাড়া সালমার বিরুদ্ধে অভিযোগে করা হয়, মণিরামপুর হাসপাতালে সেবা নিতে আসা নারীদের ডিঅ্যান্ডসি ও এমআর করানোর দায়িত্বে নিয়োজিত এই সালমা খাতুন বিনামূল্যে এই সব সেবা দেন না। যদিও তা বিনামূল্যে দেওয়ার কথা। এছাড়া আড়াই মাসের অধিক সন্তান ধারণকারী কোনো নারীর ডিঅ্যান্ডসি করানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এই বিধির তোয়াক্কা করেন না সালমা। তার বিরুদ্ধে ৫-৭ মাস গর্ভবতী নারীর ডিঅ্যান্ডসি করানোর অনেক অভিযোগ রয়েছে। যদিও হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে তিনি ওই নারীর গর্ভধারণের মেয়াদ আড়াই মাসই লেখেন। আর এসব কাজে তিনি হাতিয়ে নেন ৩-৫ হাজার টাকা। ফলে বেতন বাদেও তিনি প্রতি মাসে অবৈধভাবে হাতিয়ে নেন লক্ষাধিক টাকা।
হাসপাতালের একাধিক সূত্রে জানা যায়, অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তান ধারণকারী অনেক অবিবাহিত মেয়ের ডিঅ্যান্ডসি করান সালমা। এমনকি অবিবাহিতাদের জন্ম নিয়ন্ত্রণকারী ইনজেকশনও দেন তিনি। আর এসব কাজে এলাকাভিত্তিক কয়েকজন কর্মী রেখেছেন সালমা। যাদের মক্কেল প্রতি কমিশন দিয়ে থাকেন তিনি।
আবার কিছুদিন আগে মণিরামপুর হাসপাতালে নবজাতক রেখে যে নারী পালিয়েছিলেন, সেই নারীও ছিলেন এই সালমার মক্কেল। সালমা পাঁচ হাজার টাকা চুক্তিতে তার সন্তান নষ্ট করিয়ে দেবেন বলে চুক্তি করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু শেষতক তিনি পেরে না ওঠায় ওই নারীকে হাসপাতালের নার্স হ্যাপি রায়ের কাছে পাঠান। তখন সন্তান জন্ম দিয়ে নবজাতকটি ফেলে রেখে চলে যান ওই নারী। বিষয়টি জানাজানি হলে নবজাতকটি গায়েব করে ফেলে ওই চক্র। একাধিক তদন্ত হলেও সেই নবজাতকের খোঁজ মেলেনি আজও। এসব অভিযোগে সালমাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে বলে অফিস সূত্রে জানা গেছে।
জানতে চাইলে ডা. চন্দ্রশেখর কুণ্ডু বলেন, ‘সালমার বদলির আদেশ হাতে পেয়েছি। আগামী ২৪ তারিখ তাকে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে।’

আরও পড়ুন