ইসির নির্দেশ না মেনে বহিরাগতরাও প্রচারে

আপডেট: 05:40:08 24/06/2018



img
img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : সিটি নির্বাচনে ভোটের দুই দিন আগে বহিরাগতদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশনা নির্বাচন কমিশন দিলেও সেটা না মেনে গাজীপুরে তোপের মুখে পড়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
রোববার দুপুরে গাজীপুরের ছয়দানা এলাকায় সংবাদ সম্মেলন ডেকে সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়েন ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা। এরপর সংবাদ সম্মেলন শেষ না করেই মঞ্চ ত্যাগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে প্রশ্ন আহ্বান করলে নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী আচরণবিধির বিষয়ে তার কাছে জানতে চান একজন সাংবাদিক।
এ সময় তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো নির্দেশনার কথা আমি জানি না। আপনারা কি সেটা দেখাতে পারবেন?”
তখন একজন স্থানীয় সাংবাদিক তার মোবাইল ফোন থেকে শনিবার রাত ১২টার পর বহিরাগতরা সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না মর্মে নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি দেখান তাকে।
এরপর নওফেল বলেন, “আমি একটু আগেই ঢাকা থেকে এসেছি। এখানে প্রচারণা চালাতে আসিনি। আপনাদের ডাকে মতবিনিময় করতে এসেছি।”
তখন একজন সাংবাদিক বলেন, “আমরা আপনাকে ডাকিনি। আপনারা আমাদের সংবাদ সম্মেলনের জন্য ডেকেছেন।”
নওফেল বলেন, “আমরা জানতাম, ২৪ তারিখ রাত ১২টা পর্যন্ত আমি এখানে প্রচার চালানো যাবে। নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশনার বিষয়ে জানতাম না। আপনারা যেহেতু নজরে এনেছেন, এখন আর মতবিনিময় সভা চালু রাখা হবে না।”
এরপর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্ন করার মধ্যে মঞ্চ থেকে নেমে যান আওয়ামী লীগ নেতা নওফেল।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তিনি বলেছিলেন, “গাজীপুর সিটি নির্বাচনে কেন্দ্রীয় যে সমন্বয়ক কমিটি আছে, তার পক্ষ থেকে মতবিনিময় করতে আমি এখানে এসেছি। বক্তব্য দেওয়ার পর আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দিব।”
এর কিছুক্ষণ পর বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলামকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম।
সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মিডিয়া সেল থেকে আচরণবিধির বিষয়টি জানানোর পর আতিকুল ইসলামসহ কয়েকজন বহিরাগত নেতা মঞ্চ ছেড়ে চলে যান।
এর আগে খুলনার নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আবদুল খালেককে নিয়ে গাজীপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালান আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর।
বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হলেও তাদের নিয়ে প্রচার চালানোর বিষয়ে এক প্রশ্নে জাহাঙ্গীর বলেন, “বহিরাগত তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও মামলার আসামিরা এখানে থাকবে না, সে দাবি আমারও ছিল। নির্বাচন কমিশন যদি এই আচরণবিধির বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি দিত বা চিঠি দিত, তাহলে আমরা পালন করতাম।
“আমরা নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত ছিলাম। এটা নজরে আসেনি।”
তিনি আরো বলেন, “গাজীপুরে সব জেলার লোক থাকে। এটি একটি ব্যবসায়িক এলাকা। কারখানার অনেক মালিক আছেন, তারা আমার পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন।”
আচরণবিধির বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও নেতারা ‘জানেন না’ বললেও গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জীবকুমার দেবনাথ সাংবাদিকদের জানান, এ ব্যাপারে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে গত ১২ জুন।
এর আগে সকালের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, “আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সরকার দলের প্রার্থী প্রচারণা চালাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সেটা না দেখছে না। এর বিপরীতে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও অভিযানের নামে হয়রানি করছে।”
আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মণ্ডলকে বারবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি, এসএমএস পাঠালেও সাড়া দেননি তিনি।
বিকেল সোয়া ৪টার দিকে তার কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। সেখানকার একজন কর্মচারী বলেন, “উনি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গেছেন, কখন ফিরবেন তা জানি না।”
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তরিফুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে কথা বলার এখতিয়ার কেবল রিটার্নিং কর্মকর্তার।”
সূত্র : বিডিনিউজ

আরও পড়ুন