মেয়র প্রার্থী মুশফিককে জাপা থেকে বহিষ্কার

আপডেট: 01:57:52 18/05/2018



img

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়া জাতীয় পার্টির মেয়র পদপ্রার্থী এস এম মুশফিকুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নির্বাচনে অল্প ভোট পেয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় ক্ষুব্ধ হয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নেন। বহিষ্কারের চিঠি তার বরাবরে ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সদ্যসমাপ্ত সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে লাঙল প্রতীকের প্রার্থী মুশফিকুর রহমান সাকুল্যে এক হাজার ৭২টি ভোট পেয়েছেন।
পার্টির চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মুশফিকুর রহমানকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফল দেখে ক্ষুব্ধ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এর আগে খুলনা মহানগর জাপার কমিটি ভেঙে দেন। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চেয়ারম্যানের প্রেস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভরায়।
স্বেচ্ছাসেবক পার্টি থেকে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেওয়া মুশফিকু রহমান খুলনা অঞ্চলে বিতর্কিত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, খুনসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। রয়েছে অন্যের স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও। তাকে মেয়র পদপ্রার্থী করায় প্রতিবাদে, ক্ষোভে, অভিমানে দলের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় পার্টি থেকে গণপদত্যাগ করেন। পার্টির চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা না বললেও এ বিষয়টি পার্টির এই অঞ্চলের নেতাকর্মী-সমর্থকরাও ভালো চোখে দেখেননি। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। নির্বাচনে নেতাকর্মী-সমর্থকরা জাপার মেয়র পদপ্রার্থীর জন্য কাজ তো করেননি, এমনকি অনেকেই ভোটও দেননি।
নির্বাচন শেষে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর ফলাফল দেখে দলের চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ নেতারা হতবাক হয়ে যান। বিতর্কিত মুশফিকুর রহমানকে যিনি মেয়র প্রার্থী করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তার ওপর ক্ষুব্ধ হন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ক্ষোভে তিনি প্রথমে পার্টির খুলনা মহানগর কমিটি বাতিল করেন, পরে মুশফিকুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করলেন।

আরও পড়ুন