হঠাৎ ইজিবাইকহীন যশোর শহর, জনভোগান্তি

আপডেট: 06:44:10 12/10/2017



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : বিকল্প পরিবহনব্যবস্থা চালু না করে যশোর শহরে ইজিবাইক ও আটোরিকশা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার হঠাৎ এই ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। যানবাহন না পেয়ে শহরের রাস্তায় বহু মানুষকে হেঁটে চলতে দেখা যায়।
একেকবারে বন্ধ না করে দিয়ে এ যান নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত দিয়েছেন শহরের বিশিষ্টজনরা।
গত রোববার জেলা প্রশাসক মো. আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় শহরে ইজিবাই বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনষ্ঠিত হয়েছিল।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর যশোর। বিভাগীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকটি দপ্তর এই শহরে অবস্থিত। দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল ও অন্যতম প্রধান বাণিজ্য ও শিল্পাঞ্চল নওয়াপাড়া এই জেলায় অবস্থিত। এই দুই এলাকায় নানা কাজে আসা মানুষেরা যশোর শহরে নিয়মিত যাতায়াত করেন। শহরে পাবলিক বাস সার্ভিস নেই। সে কারণে রিকশা ও অটোরিকশাই মূল ভরসা। গত কয়েক বছরের মধ্যে এই শহরে প্রায় ১৫ হাজার অটোরিকশা (ইজিবাইক) চলাচল করতে শুরু করেছে। দিন দিন কমছে পায়ে টানা রিকশার সংখ্যা। কার্যত শহরবাসী ও শহরে আসা মানুষদের চলাচলের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে ইজিবাইক। এই যানবাহনটির আধিক্যে অনেক ক্ষেত্রেই দুর্ভোগেও পড়েন সাধারণ মানুষ।
আজ বিকেলে যশোর জিলা স্কুলের সামনে কথা হয় ঝিকরগাছা থেকে আসা স্কুলশিক্ষক মো. জাহাঙ্গীরের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘যশোরের চলাচলের জন্য ইজিবাইক আর রিকশাই একমাত্র যান।’
তিনি বলেন, ‘গ্রামের রাস্তায় ভ্যানগুলোও ব্যাটারিতে চলছে। তাহলে কেন শহরে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক রাস্তায় নামতে পারবে না?’
এই শিক্ষক জানান, বিকল্প পরিবহন না থাকায় কষ্টের পাশাপাশি বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। পায়ে টানা রিকশার ভাড়া রাতারাতি কয়েকগুণ হয়ে গেছে।
তার সঙ্গে কথা বলার সময় পাশ থেকে আবুল হোসেন নামে এক পথচারী বলেন, ‘বাজারে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে। তার ওপর এখন চলাচলের জন্য বাড়তি টাকা গচ্চা যাচ্ছে।’
দুপুরে জিলা স্কুল, সরকারি বালিকা বিদ্যালয় প্রভৃতি স্কুলের সামনে শত শত শিক্ষার্থীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা শেষে তারা বাড়ি ফেরার জন্য যানবাহন পাচ্ছিলো না। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মেয়ে শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়ে হঠাৎ যানবাহন সংকটে।
তারা জানায়, ইজিবাইকে মোটামুটি পাঁচ টাকা খরচ করে তারা বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। আজ ইজিবাইক না থাকায় রিকশা চালকরা ৪০-৫০ টাকা ভাড়া হাঁকছেন। কিন্তু টাকা দিতে রাজি থাকলেও মিলছে না রিকশা।
মণিরামপুর উপজেলার কাশিমনগর থেকে আসা এক ব্যক্তি শহরের মুজিব সড়ক ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন গন্তব্যে। বললেন, চাঁচড়া মোড় থেকে রেলগেট পর্যন্ত দুই কিলোমিটার রাস্তা। ইজিবাইকের ভাড়া পাঁচ টাকা। বাইক বন্ধ থাকা ৪০ টাকা দিয়ে রিকশায় আসতে হয়েছে। আর রেলগেট থেকে শহরের মাইকপট্টি পর্যন্ত যেতে রিকশাওয়ালা চাইছে ৪০ টাকা।’
এ ব্যাপারে ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য ও যশোর জেলা কমিটির সভাপতি ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, ‘ইজিবাইক বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিযুক্ত, তা কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ভেবে দেখেছেন? এ সব বাইক বিদেশ থেকে বৈধভাবে আমদানি করা। পৌরসভা অনেক বাইকের লাইসেন্সও দিয়েছে। দেশে হাজার হাজার ছেলে-মেয়ে বেকার। ইজিবাইক চালিয়ে যারা সংসারের বোঝা টানছিল, তাও বন্ধ করে দিলো প্রশাসন। এ সব মানুষ কী করে খাবে? আর বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা চালু না করে ইজিবাইক বন্ধ করায় ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ।’
এভাবে সমস্যার সমাধান হবে না বলে মত দেন নাগরিক অধিকার আদায়ে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম করা নেতা ইকবাল কবির জাহিদ।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ইজিবাইক বন্ধ করায় মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। যানবাহন বন্ধ না করে পরিকল্পনামতো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে আমি মনে করি। যারা যানবাহন বন্ধ করেছেন, নিশ্চয় তারা জনগণের কথা বিবেচনা করে সিন্ধান্ত নেবেন।’
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি যশোর পৌরসভা বেশ কিছু ইজিবাইককে নিবন্ধন করায়। এর বিনিময়ে বাইক মালিকদের কাছ থেকে মোটা টাকা আদায়ও করা হয়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা পৌরসভার এই উদ্যোগকে এখতিয়ারবহির্ভূত বলে অভিহিত করেন।

আরও পড়ুন